× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪, প্রাণহানির আশঙ্কা ১০ হাজার ছাড়ানোর

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৬ জুন ২০২৬, ০৩:২২ এএম । আপডেটঃ ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ এএম

ভেনেজুয়েলার কারাকাসে ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিত মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।

ভেনেজুয়েলায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

রয়টার্স ও এএফপির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। 

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম রাজধানী কারাকাসের চাকাও পৌরসভা। সেখানকার মেয়র গুস্তাভো দুকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, তাঁর এলাকায় এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে মেয়র দুকে বলেন, "১৯ বছর বয়সী এক তরুণী এখনো কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি আমাদের উদ্ধারকারী দলের সাথে যোগাযোগ ধরে রাখতে পেরেছেন। আমরা তাঁকে জীবিত বের করে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"

চাকাও পৌরসভায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে সেখানে আরও চারজনকে উদ্ধারের জন্য হন্যে হয়ে কাজ করছে জরুরি উদ্ধারকারী দল।

হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের কাছে কোনো পরিচয়পত্র (আইডি) নেই। ফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

চাকাও মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেন, "যাঁরা সচেতন বা জ্ঞান ফিরে পাচ্ছেন, তাঁদেরকে হাসপাতালে নিজেদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে। আর যাঁরা এখনো অচেতন, তাঁদের ছবি ধসে পড়া ভবনগুলোর অন্য বাসিন্দাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।"

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকা লা গুয়াইরা রাজ্যে অন্তত একশোরও বেশি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ লা গুয়াইরাকে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে 'দুর্যোগপূর্ণ এলাকা' ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, "লা গুয়াইরাতে ডজন ডজন ভবন ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে। এটি একটি নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়।"

উপকূলীয় ও শহরাঞ্চলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে গতি আনতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে (ইনসারাগ) মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। এই আন্তর্জাতিক দলগুলো স্থানীয় বাহিনীকে লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো মূলত সবচেয়ে বিপর্যস্ত দুই এলাকা—লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের ওপর তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব নাগরিক সুরক্ষা (সিভিল প্রটেকশন) বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো।

সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আলো ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.