× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হরমুজ প্রণালির ‘মৃত্যুকূপ’ থেকে বের হলো বাংলাদেশি জাহাজ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৩ জুন ২০২৬, ২১:৫১ পিএম । আপডেটঃ ২৩ জুন ২০২৬, ২১:৫৬ পিএম

দীর্ঘ চার মাস পারস্য উপসাগরের যুদ্ধপরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ থাকার পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে এগিয়ে চলা বিএসসির জাহাজ 'এমভি বাংলার জয়যাত্রা'। ফাইল ছবি

পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে নিরাপদে মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এই ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান ও নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৩১ জন নাবিক ও প্রকৌশলী নিয়ে জাহাজটি বাংলাদেশ সময় রোববার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। 

চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশের পর ইরান যুদ্ধ শুরু হলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে জাহাজটি। যুদ্ধকালীন তীব্র গোলযোগের কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে তিন দফা চেষ্টা করেও বের হতে পারেনি বাংলার জয়যাত্রা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ অ্যাঙ্কারেজে দীর্ঘ বন্দিদশায় থাকার পর, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার সুবাদে আংশিক গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে জাহাজটি সাহসিকতার সাথে অবরুদ্ধ দশা থেকে বেরিয়ে আসে।

জাহাজের ক্রু ও কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরের সেই দিনগুলোকে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চোখের সামনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিধ্বস্ত অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আশপাশের জাহাজে আছড়ে পড়তে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।


"আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা এখন নিরাপদে আছি, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"
— রাশেদুল হাসান ও মো. শফিকুল ইসলাম, জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও ক্যাপ্টেন


বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানায়, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে টোলের দাবি থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশন) এড়াতে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুনিপুণ কূটনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ট্রাফিকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং সিঙ্গাপুরের অপারেটর কোম্পানির মৌখিক সবুজ সংকেত পাওয়ার পর অন্যান্য জাহাজের সাথে সমন্বয় করে ধীরগতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলার জয়যাত্রা। তবে যুদ্ধকালীন এই অবরুদ্ধ সময়ে ক্রুদের নিয়মিত ভাতার বাইরে দৈনিক ১২ ডলার করে 'ওয়ার ওয়েজ' বা যুদ্ধকালীন বিশেষ মজুরি এবং ঈদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে বিএসসি।

দীর্ঘদিন সাগরে একস্থানে নোঙর করে থাকায় জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা ও ময়লা জমে গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া জাহাজে মাত্র ২৪ দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট থাকায় জরুরি ভিত্তিতে রসদ সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


"যেহেতু আমরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছিলাম এবং জাহাজটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় রয়েছে, তাই এখনই এটি বাংলাদেশে ফিরছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে তলদেশ পরিষ্কার ও ১২০০ টন ভারী জ্বালানি তেল (এইচএফও) সংগ্রহ শেষে জাহাজটি প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান ও কেপ টাউন বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।"
— কমডোর মাহমুদুল মালেক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএসসি


ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও কোনো আর্থিক ক্ষতি ছাড়া ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের জীবন অক্ষত রেখে একটি অবরুদ্ধ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে জাহাজ উদ্ধার করাকে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।



তথ্যসূত্র: বিবিসি 



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.