লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। ছবি: রয়টার্স
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ও লেবার পার্টির দলীয় প্রধানের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে দলে প্রশ্ন ওঠার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।
সোমবার (২২ জুন) লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন ও সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের ভাষণে স্টারমার বলেন, তাঁর দল এখন যে প্রধান প্রশ্নটি তুলছিল তা হলো—আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক বাস্তবতার বিষয়ে তিনি তাঁর দলের তৃণমূল ও নীতি-নির্ধারকদের "উত্তর শুনেছেন" এবং একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে "উদার মনে সেই উত্তর মেনে নিয়েছেন।"
নিজের রাজনৈতিক সততা ও দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে বিদায়ী এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তাঁর নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
স্যার কিয়ের স্টারমার বলেন, "আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল সর্বদা আমার ভালোবাসার দেশকে সবার আগে স্থান দেওয়ার বিষয়ে। আমি আজ লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করব।"
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার প্রাক্কালে স্টারমার তাঁর মেয়াদের চ্যালেঞ্জ ও অর্জনের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি যখন দলটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন লেবার পার্টি এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, দেউলিয়া অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলে তিনি পুনর্গঠন করেছেন।
যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বলেন, "আমি এমন এক লেবার পার্টি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম যা ছিল রাজনৈতিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া। আমাকে বারবার বলা হয়েছিল যে এই দল শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি সেই মানুষদের ভুল প্রমাণ করেছি।"
স্টারমার বলেন, তাঁর সময়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল দলের ভেতরের বর্ণবাদ দূর করা। তিনি বলেন, "ইহুদি-বিদ্বেষের (অ্যান্টি-সেমিটিজম) বিষ উপড়ে ফেলে" তিনি দলটিকে আমূল পরিবর্তন করেছেন। এর মাধ্যমেই যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর লেবার পার্টির প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
স্যার কিয়ের স্টারমারের এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বিদায় লেবার পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার লড়াইকে যেমন তীব্র করবে, তেমনই আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছে। তা এখন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
