× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ০১:৩২ এএম । আপডেটঃ ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধ বন্ধ ও মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ওয়াশিংটনের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি পৃথকভাবে এই অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুপক্ষই এখন সমঝোতার শেষ ধাপে রয়েছে। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "আমাদের আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে। এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটতে পারে। আমি খুবই আশাবাদী।" তিনি করেন, এই সমঝোতার মূল শর্ত হলো ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফেব্রুয়ারি মাসের যুদ্ধের জবাবে ইরান এই নৌপথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও দুপক্ষের মধ্যে দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আলোচনাকারীরা "মাত্রই একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন" বিধায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করেছেন। তবে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ১৪ দফার খসড়াকে 'বাস্তবতাবর্জিত' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন। সমঝোতা স্মারকটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, এই চুক্তি কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়। বরং ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানকে আগাম কোনো অর্থ বা জব্দকৃত সম্পদ দেওয়া হবে না। তেহরান শর্ত পূরণ করলে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করা হবে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরে ধ্বংস ও পরে তা বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে হেজবুল্লাহসহ ইরানের অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে এই চুক্তিতে। তবে ইসরায়েল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।

আরাঘচি দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর সংঘাত অবসানের বিষয়টিও রয়েছে। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, হেজবুল্লাহ হামলা বন্ধ না করলে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থায় চুক্তিটি নিয়ে এখনো মতভেদ থাকলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দূরবর্তী উপায়ে এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.