ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: আইআরজিসি/রয়টার্স
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তেহরান। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘পঞ্চম নৌবহর’ (ফিফথ ফ্লিট) এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবস্থার আওতাধীন একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে একযোগে বড় ধরনের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ বুধবার (১০ জুন) আইআরজিসি এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামরিক সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো তীব্র সংঘাত চলছে এবং মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এর চেয়েও ‘আরও কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে। এই অভিযানকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির অন্তত ২১টি সুনির্দিষ্ট নিশানায় একযোগে আঘাত হেনেছে তেহরান। এর পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
"যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চড়া মূল্য দিতে হবে। জর্ডানের ঘাঁটিতে আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রসহ চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।"
— ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযান ছিল ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের সমানুপাতিক জবাব’। তবে তেহরান জানিয়েছে, সিরিকের বেমানি জেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হওয়া ছাড়া বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
এদিকে, দুই মহাশক্তির এই সরাসরি সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং এর সাহায্যে যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করার প্রস্তুতি রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, "আমরা দেশের নাগরিকদের কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।"
হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে জর্ডান ও বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত এই সামরিক সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যকেই নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি অবিলম্বে সংযম প্রদর্শন না করে, তবে এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করাসহ এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
