মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ‘পাল্টা জবাবের’ হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যার পরপরই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে এই সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক বিমান অভিযান ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের একটি সমানুপাতিক ও সুনির্দিষ্ট জবাব’। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, "হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন, যাঁরা বর্তমানে নিরাপদ ও সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। তবে এই কাপুরুষোচিত হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
"মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ মঙ্গলবার ইরানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে। এই অভিযান ইরানের সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের একটি সমানুপাতিক প্রতিরোধমূলক জবাব।"
— ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)
অভিযান চলাকালীন সেন্টকমের বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভূপাতিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রু মেম্বারকে উদ্ধার করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো একটি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই প্রথম কোনো উদ্ধার অভিযানে এ ধরনের চালকবিহীন জলযান ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হেলিকপ্টারটিতে হামলার জন্য ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। তবে ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেছিল নাকি এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এই দাবি ও সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার সঙ্গে তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ইরান এর দায় স্বীকার করেনি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলসীমায় নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
