× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তৃণমূল ভেঙে তিন ভাগ

মমতা ব্যানার্জীর হাতছাড়া হতে পারে দলীয় প্রতীক ও বিপুল সম্পত্তি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ২১:৪৬ পিএম । আপডেটঃ ০৯ জুন ২০২৬, ২১:৫৯ পিএম

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ ভেঙে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে রাজ্যের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই মমতার হাত ছেড়ে বিদ্রোহী ব্লকে যোগ দেন। এই নজিরবিহীন দলীয় ভাঙনের ফলে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলটির নাম, দলীয় প্রতীক এবং প্রায় এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের দলীয় সম্পত্তি শেষ পর্যন্ত কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দলটির ৪১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্ব চরম সংকটে পড়েছে। 

দলটির এই আকস্মিক ভাঙন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৩ সালের মহারাষ্ট্রের শিবসেনা এবং এনসিপির ঐতিহাসিক ভাঙনের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিধানসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ৬০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ব্যানার্জীকে তাঁদের ‘বিরোধী দলনেতা’ ঘোষণার পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এক বৈঠকে এনডিএ জোটকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানান লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা।

বিদ্রোহী সংসদীয় ব্লকের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন। ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা বলেন, "ভারতের ‘সিম্বলস অর্ডার ১৯৬৮’-এর ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, দলীয় প্রতীক বা সম্পত্তির অধিকার কার কাছে যাবে তা নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তবে দলের ভেতর থেকে কোনো পক্ষ যদি নির্দিষ্ট ‘ডিসপিউট’ বা বিরোধ দাবি করে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়, কেবল তখনই কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আইনি এখতিয়ার পায়।"

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম এবং ১৯৭১ সালের ‘সাদিক আলি বনাম ভারত নির্বাচন কমিশন’ মামলার ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, দলের সিংহভাগ এমপি, এমএলএ এবং সাংগঠনিক কমিটির নেতারা কোন পক্ষে আছেন, সেটিই প্রতীক বরাদ্দের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূলের কোনো পক্ষই নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারক অশোক গাঙ্গুলী জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে কোনো আইনি ব্যত্যয় ঘটলেই কেবল সর্বোচ্চ আদালত এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ভারতের ইতিহাসে এই ভাঙনটি সম্পূর্ণ নজিরবিহীন, কারণ, সাধারণত দল দুই ভাগে ভাগ হলেও তৃণমূল এবার তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। রাজ্যের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জীর অনুসারী বিধায়কেরা দল ছাড়লেও তাঁরা এখনও নীতিগতভাবে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে, এমপি শর্মিলা সরকার ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন দিল্লির সংসদীয় ব্লকটি সরাসরি বিজেপির এনডিএ জোটের অংশীদার হয়েছে।

সর্বশেষ আর্থিক ঘোষণা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে আয়ের নিরিখে বিজেপির পরেই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদশালী রাজনৈতিক দল। দলটির স্থাবর সম্পত্তি, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ব্যাংকে গচ্ছিত নগদ মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি। নির্বাচন কমিশনের আইনি লড়াইয়ে যদি মমতাবিরোধী কোনো ব্লক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে সফল হয়, তবে ভারতের আইন অনুযায়ী দলটির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ হাতছাড়ার পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদের ওপর থেকেও মমতা ব্যানার্জীর আইনি অধিকার চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.