× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

ইরানের আলোচনার অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার আভাস

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম । আপডেটঃ ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলও ইরানি ভূখণ্ডে পাল্টা বোমা হামলা চালায়।

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও এই সংঘাত ওয়াশিংটনের সাথে চলমান কূটনৈতিক দরকষাকষিতে তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এখনই নেতানিয়াহুকে ফোন করে বলব, তিনি যেন পাল্টা হামলা না চালান।" কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় অবস্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। পরবর্তীতে সোমবার বিকেলে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি যখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলছিলেন, ততক্ষণে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে উড়ছিল।

তবে হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবের মধ্যকার এই প্রকাশ্য টানাপোড়েনকে তেহরান নিজেদের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে। ইরান নিজের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়েও ইসরায়েল-হেজবুল্লাহর আঞ্চলিক যুদ্ধকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের সাথে এক সুতোয় বাঁধতে সফল হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—ভবিষ্যত আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সর্বাধিক সুবিধা ও ছাড় আদায় করা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "আমরা মাঠও ছাড়িনি, আলোচনার টেবিলও নয়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। মূলত কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা হলো আমাদের জাতীয় শক্তির দুটি অবিচ্ছেদ্য ডানা।"

বাস্তবতা হলো, মার্কিন নীরব বা পরোক্ষ সম্মতি ছাড়া ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে ইসরায়েলের এই হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাথে সম্পূর্ণ সমন্বয় করেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। তবে সোমবার বিকেলের দিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমান দফার সরাসরি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে।

এদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। চলমান এই সংকট থেকে উত্তরণে তেহরান মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে দুটি অগ্রাধিকারমূলক শর্ত আদায় করতে চায়—প্রথমত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল রাজস্বের অবমুক্তকরণ এবং দ্বিতীয়ত, লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন সীমিত করা।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন অর্থনীতিও চাপে পড়েছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। ট্রাম্প দ্রুত একটি চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও, চুক্তির শুরুতেই ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার প্রস্তাব তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক এই অচলাবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেকোনো মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আবারও একটি সরাসরি এবং পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.