জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের শান্তি রক্ষায় ইরান যেকোনো ধরনের হুমকির মুখে দৃঢ় অবস্থানে থাকবে এবং কোনো চাপেই পিছু হটবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, তাঁর সরকার একই সাথে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রেখে এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তায় অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির জবাবে তিনি দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের অধিকার সমুন্নত রাখা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইরানের জনগণের শান্তি ও স্বস্তি। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে জাতির অধিকার রক্ষা করব এবং কোনো ধরনের হুমকির মুখে পিছু হটব না।”
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর সরকারের কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র এবং আলোচনার টেবিল—উভয় মাধ্যমকেই সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হলে সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তির ভারসাম্য থাকা জরুরি।
এই দ্বিমুখী নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা হলো জাতীয় শক্তির দুটি ডানা। আমরা না যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেছি, না আলোচনার টেবিল। মহান আল্লাহর সাহায্যে, ঐক্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ইরান এই পরীক্ষাও সফলভাবে অতিক্রম করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা। একদিকে তিনি যেমন সামরিক শক্তি ও প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং পশ্চিমাদের সাথে পরমাণু চুক্তি বা অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ইরান যে সহজে আপস করবে না, প্রেসিডেন্টের এই দৃঢ় অবস্থান তা-ই প্রমাণ করে। অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে আগামী দিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো ইরান কীভাবে মোকাবিলা করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি