নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা সমাবেশে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন হাজারো তরুণ। ছবি: এএনআই
ভারতের ‘নিট’-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির তীব্র প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরেই সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এই শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ সমাবেশে যোগ দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকে দলে দলে বিক্ষোভকারী সমবেত হলে পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব ‘তেলাপোকা’ জোয়ারে ভেসে যায়।
এর আগে, তেলাপোকাদের এই সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও মেট্রোস্টেশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারই আদালত সেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিলে শনিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা নেই। আইনি সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান সিজেপি প্রধান অভিজিৎ, এ সময় তাঁর হাতে ছিল ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা ড. বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনী।
যন্তর মন্তরের এক পাশে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণদের স্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’ এবং ‘পেপার লিক সরকার কতবার আসবে?’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরের চারদিকে সতর্ক অবস্থান নেয় দিল্লি পুলিশের দাঙ্গা রোধ বাহিনী।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়বে। তেলাপোকা সহজে ভয় পায় না, মরেও না। সরকার আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ না দিয়ে, উল্টো আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে নজরদারি চালিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে।”
সমাবেশ চলাকালীন পোকা মারার স্প্রে হাতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিক্ষোভকারীরা, যিনি আন্দোলনকারীদের ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ ও ‘শহুরে নকশাল’ বলে অভিহিত করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের দ্রুত সরিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, সিজেপির এই বিপুল জনসমর্থন দেখে ক্ষমতাসীন বিজেপি আগেই এই আন্দোলনকে ‘পাকিস্তানপন্থী’ এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস দ্বারা মদদপুষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছিল।
সমাবেশে অংশ নেওয়া একাধিক সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমকে জানান, এই আন্দোলন ভারতের ভবিষ্যৎ ও যুব সম্প্রদায়ের মঙ্গলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের প্ররোচনায় পা না দিয়ে এবং রাজনৈতিক পতাকা বর্জন করে হাতে বই, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই কর্মসূচি আগামী ২৩ জুন দিল্লির রামলীলা ময়দানে দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশের মধ্য দিয়ে আরও গতিশীল হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
