× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মহামারী রুখতে মানুষের শরীরে ‘এআই ভ্যাকসিনের’ সফল পরীক্ষা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ০১:১৫ এএম । আপডেটঃ ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ভবিষ্যৎ মহামারী প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের উপাদান বা ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ নিয়ে কাজ করছেন গবেষকেরা।ছবি: রয়টার্স

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বের প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে নকশাকৃত ভ্যাকসিনের সফল মানব পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। নতুন এই ভ্যাকসিনটি বর্তমান করোনাভাইরাসের সব ধরনের ভ্যারিয়েন্ট তো বটেই, এমনকি প্রাণী থেকে ছড়ানো ভবিষ্যৎ মহামারী সৃষ্টিকারী যে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধেও মানবদেহে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম। ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ইবোলার মতো মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধেও এই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ভ্যাকসিন তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের ‘ভাইরাসের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে থাকার’ চিরন্তন সংকটের অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো সাধারণত ভাইরাসের বর্তমান স্ট্রেইন বা ধরণ ব্যবহার করে তৈরি হওয়ায় ভাইরাসের দ্রুত রূপান্তর বা মিউটেশনের কারণে কার্যকারিতা হারায়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে কেমব্রিজের গবেষকরা বিশ্বজুড়ে নজরদারি কর্মসূচি থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন করোনাভাইরাসের পরিচিত জেনেটিক কোড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন।

এআই প্রযুক্তি এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার মন্থন করে একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ নকশা করেছে। এই অ্যান্টিজেন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করে, যাতে ভাইরাস রূপ পরিবর্তন করলেও শরীর নিজেই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বিবিসি নিউজকে বলেন, “এর উদ্দেশ্য হলো এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা যা আমাদের কেবল আজকের ভাইরাস থেকেই রক্ষা করবে না, বরং ভবিষ্যতের যেকোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বা রোগ থেকে সুরক্ষা দেবে। মহামারী মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।”

‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না তা যাচাই করতে প্রথম ধাপে ৩৯ জনের ওপর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর প্রাথমিক প্রভাব ‘পরিমিত’ হলেও, প্রযুক্তিটির অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরবর্তী ধাপে এর কার্যকারিতা আরও বিশদভাবে বুঝতে প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হবে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট জানান, অনবরত রূপ পরিবর্তন করা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য মহামারীগুলোর ভ্যাকসিন তৈরিতে এই প্রযুক্তি অনেক বেশি কার্যকর।

কেমব্রিজের এই গবেষক দলটি বর্তমানে একটি সর্বজনীন ফ্লু ভ্যাকসিনের জন্য প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যা সফল হলে প্রতি বছর শীতকালীন ফ্লু-এর টিকা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হবে না। একই সাথে তারা মারাত্মক বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১) এবং কঙ্গোয় প্রাদুর্ভাব ছড়ানো ইবোলার নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরিতে এই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পদ্ধতিটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এআই টুলগুলো মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া আগে থেকেই অনুমান করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে ভ্যাকসিন গবেষণার মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাবে।

যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ’-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক মারিয়ান নাইট এই সাফল্যকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি 'যুগান্তকারী ধাপ' বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড ভ্যালেন্স বলেন, “আমরা কীভাবে আমাদের গবেষণার জ্ঞান-দক্ষতার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলিয়ে নতুন চিকিৎসা দিতে পারি এটি তার বড় উদাহরণ। মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এই কাজ বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কল্যাণে দ্রুত ভ্যাকসিন বা টিকা পৌঁছে দিতে সহায়ক হতে পারে।”

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.