২০২৬ সালে সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। ছবি: রয়টার্স
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শুক্রবার (৫ জুন) রোমভিত্তিক এই সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, একদিকে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে তীব্র তহবিল সংকটে ত্রাণ সহায়তা কমাতে বাধ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, যার ফলে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরানকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংঘাত পারস্য উপসাগর থেকে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো দীর্ঘ ও বিকল্প পথ ব্যবহার করায় বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে এবং গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
ডব্লিউএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলো। ২০২৬ সালের মধ্যে শুধু সোমালিয়াতেই মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ—প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আরও ২৫ লাখ সোমালি নাগরিক অনাহারের ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে, যেখানে আরও ২৩ লাখ মানুষের নতুন করে সহায়তার প্রয়োজন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটিতে ত্রাণ পরিবহনের খরচ পাঁচ গুণ বেড়েছে এবং বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে যেখানে আগে ত্রাণ পৌঁছাতে ১০ দিন লাগত, এখন সেখানে ৭৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, তহবিল ঘাটতির কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তাদের সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৫ লাখ কমতে পারে। চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট যদি আগামী ছয় মাস স্থায়ী হয়, তবে অতিরিক্ত আরও ৯০ লাখ মানুষ সরাসরি জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
বর্তমানে সোমালিয়ায় বিমানের জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ‘জাতিসংঘ হিউম্যানিটারিয়ান এয়ার সার্ভিস’ (ইউএনএইচএএস)-এর পরিচালন ব্যয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটির দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আকাশপথে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
