× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাংলাদেশের হত্যাকাণ্ডে ভারতকে জড়িয়ে মন্তব্য

মমতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ এএম । আপডেটঃ ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে মমতা এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজ্যের শিলিগুড়ি সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং নামের স্থানীয় এক আইনজীবী।

আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হলো।

থানায় দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) একটি রাজনৈতিক মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গোপনীয় কিছু আলোচনা হয়েছে। এরপরই তিনি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগকারী আইনজীবী রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং বলেন, "ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার স্পষ্ট চেষ্টা চালিয়েছেন অভিযুক্ত। জনসমক্ষে ও সংবাদমাধ্যমের সামনে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার মূল উদ্দেশ্য দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বৈরী মনোভাব সৃষ্টি করা।"

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জনসভা ও সংবাদমাধ্যমে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে তিনি উসকানিমূলক কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এজাহারের তথ্যমতে, মমতা এমন কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যার উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা’ এবং ‘সামাজিক অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা।’

সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এটিই প্রথম আইনি ধাক্কা নয়, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতায় অপর একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। গত বছর কলকাতার একটি ঈদ উৎসবে সনাতন ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্য সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে এবং পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করেছে।"

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিঘ্নিত করা এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির এই জোড়া অভিযোগ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিলিগুড়ি সাইবার থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাব আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মেরুকরণে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.