× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পশ্চিমবঙ্গের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছেন মমতা

৫৮ বিধায়ক নিয়ে 'আসল তৃণমূল' গঠনের দাবি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ২৩:১৪ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ২৩:১৯ পিএম

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির জেরে এবার চরম ভাঙনের মুখে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বুধবার দলটির সব রাজ্য ও শাখা কমিটি ভেঙে দিয়েছেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের (এমএলএ) মধ্যে ৫৮ জন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় দলটির ভবিষ্যৎ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতা হারায়। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করেন।

কিন্তু মমতার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করে তৃণমূলের বিধায়কদের একটি বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দল থেকে বহিষ্কৃত এমএলএ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী অংশটি এক জোট হয়ে দলের ভেতরেই বড় ধরনের ফাটল তৈরি করে।

বিদ্রোহী ৫৮ জন এমএলএ আজ বুধবার নতুন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ (স্পিকার) রথীন্দ্র বসুকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা দাবি করেছেন, ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন এমএলএ তাঁদের সঙ্গে থাকায় তাঁরাই আইনগতভাবে ‘আসল তৃণমূল’ এবং তাঁরাই বিধানসভায় মূল বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

তবে নাটকীয় বিষয় হলো, নতুন তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে দলটির নেত্রী হিসেবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই উল্লেখ করা হয়েছে। এই নতুন অংশটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা এবং আরও চারজনকে উপনেতা করার প্রস্তাব করেছে।

এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। নতুন এই অংশটি বিধানসভায় আদৌ স্বীকৃতি পাবে কি না এবং এই ৫৮ জন এমএলএ-র অবস্থান কী হবে, তা খতিয়ে দেখতে বিকেল পর্যন্ত সময় নিয়েছেন স্পিকার।


"গভীরভাবে পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের সব কমিটি এবং এর সব শাখা সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হলো।"
— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি



বিধায়কদের এই বিদ্রোহের পরপরই আজ তৃণমূল কংগ্রেস এক সাংগঠনিক আদেশে পশ্চিমবঙ্গের সব শাখা, সংগঠন ও উপ-সংগঠন ভেঙে দেয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে মাঠপর্যায়ে দলটির কোনো আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী বা কমিটি অবশিষ্ট রইল না। কেন এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সে বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মুখ খোলেননি।

এদিকে, এই অস্থিরতার মধ্যেই মমতার অনুগত হিসেবে পরিচিত কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দলীয় মুখপাত্র কুনাল ঘোষ নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে তাঁর ডাকা একটি বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

গাঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক হাতছাড়া হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের মূল বিরোধী দলের ভাগ্য। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সংগঠনহীন হয়ে পড়া সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে এই চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে দল ও নিজের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.