× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দিল্লির বহুতল রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ১৫:১৯ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ১৫:৩২ পিএম

দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁ ভবনে লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুনে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিটের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধারকর্মীরা এ পর্যন্ত ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির জনবহুল মালব্য নগর এলাকার ‘লেমন গ্রিন’ নামের ওই রেস্তোরাঁ ও হোটেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

প্রাথমিক তদন্তে ভবনটিতে আইনি ও সুরক্ষাজনিত ভয়াবহ নিয়ম লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহুতল ভবনটির নিচে ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে হোটেল ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, রেস্তোরাঁটি ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (বিএনবি) প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৬টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু সেই আইনি অনুমতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভবনটির ভেতরে অবৈধভাবে প্রায় ২৫টি কক্ষ তৈরি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, যা উদ্ধারকাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা এ কে মালিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, "বুধবার সকাল ৮:৫০ মিনিটে আমরা প্রথম আগুনের খবর পাই। এটি একটি বেসমেন্ট, নিচতলা এবং তার ওপরে পাঁচ তলাবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন। আগুন বেশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবনটির ভেতর বিষাক্ত ধোঁয়া আটকে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।"

তিনি আরও জানান, ভবনটির ঠিক সামনেই দিল্লির বিখ্যাত ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’ অবস্থিত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের আত্মীয়-স্বজন ও বিদেশি নাগরিকরা মূলত এই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) অনন্ত মিত্তাল গণমাধ্যমকে বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে অন্তত ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ভবনের ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।"

স্থানীয় সাবেক বিধায়ক এবং আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী ঘটনার কারণ হিসেবে এলাকার জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "এলাকাটিতে বৈদ্যুতিক তারের তীব্র জটলা রয়েছে। সেখান থেকে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে প্রথমে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে আগুন লাগে এবং দ্রুত তা ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।" তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর ভবনের সামনে অবস্থিত একটি লেপ-তোশকের দোকানের মালিক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি রাস্তায় প্রচুর লেপ বিছিয়ে দেন, যার ওপর ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে অনেক মানুষ প্রাণ রক্ষা করেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারণজিৎ সিং সান্ধু এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ডিডিএমএ ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ সব জরুরি সংস্থাকে উদ্ধার কাজে সমন্বিতভাবে নামানো হয়েছে। দিল্লি সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"

দক্ষিণ দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ডিডিএমএ) এসডিএম জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে আইন লঙ্ঘনকারী অবৈধ বাণিজ্যিক ভবনের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.