× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ১৩:৩০ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ১৫:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের আমদানিপণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত ও প্রভাবশালী প্রস্তাবটি আনা হয়, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) কার্যালয় জানিয়েছে, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জোরপূর্বক শ্রমের ওপর চালানো দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ‘অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন তদন্তের’ সর্বশেষ ফলাফল হিসেবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে দেশটির জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, ওয়াশিংটন তাদের শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমসন গ্রিয়ার বলেন, "জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা কোনোভাবেই অগ্রহণযোগ্য। এটি এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্ববাজারে চরম অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে বাধ্য হন।"

চলতি বছরের মার্চ মাসেই বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল মার্কিন প্রশাসন। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প প্রশাসনের ২০ জুলাই শেষ হতে যাওয়া ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ ফুরানোর আগেই এই নতুন প্রস্তাবনা আনা হলো।

ইউএসটিআর-এর খসড়া অনুযায়ী, ৬০টি দেশকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শুল্ক আরোপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। যেসব দেশ ইতোমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তা কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে—বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও ব্রিটেনসহ ১৫টি দেশ এই ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় রয়েছে। অন্য দিকে চীন, ভারত ও মালয়েশিয়াসহ বাকি ৪৫টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখতে জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ), নির্দিষ্ট কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানের যন্ত্রাংশকে এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পোশাক খাতের ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ বা বিশেষ বস্ত্র কাঠামোর প্রস্তাব করেছে, যার অধীনে নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক হ্রাসকৃত শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। তবে সেই কোটা বা হ্রাসের পরিমাণ এখনো স্পষ্ট করেনি ইউএসটিআর।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ জুলাই আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্পের একক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হতে যাচ্ছে। তার ঠিক আগ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের এই নতুন প্রস্তাব বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করল। একই সঙ্গে ইউএসটিআর শিগগিরই চীনসহ ১৬টি দেশের অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার ওপর আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.