× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ১৩:৩০ পিএম

ইরানের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি

সপ্তাহব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ ও স্থবির হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ইরানের নিক্ষেপ করা বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। গতকাল মঙ্গলবারের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্য করে তারা "আত্মরক্ষামূলক" হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব দিতেই তারা মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, "হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।"

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরান কুয়েতের দিকে লক্ষ্য করে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে বাহরাইনের দিকে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করা হয় এবং কুয়েতের দিকে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথে ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

পাশাপাশি, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে জারি করা মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও জোরদার করা হয়েছে। অবরোধের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের খারগ দ্বীপের দিকে যাওয়ার সময় বতসোয়ানার পতাকাবাহী 'এম/টি লেক্সি' নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিন রুমে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন যুদ্ধবিমান। সেন্টকম জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজটিকে অকার্যকর করা হয়েছে। এ নিয়ে অবরোধ শুরুর পর থেকে মোট ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ অকার্যকর এবং ১২২টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করল মার্কিন বাহিনী।

এই সামরিক সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে হাজির হয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এই মুহূর্তে তাদের সাথে যা আলোচনা হয়েছে তা হলো, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ, যে কারণে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছিল—যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত—তার বিনিময়েই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা সম্ভব।"

এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় একজন সিনেটরের প্রশ্নের জবাবে রুবিও দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, "যুদ্ধ শেষ হয়েছে।" তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কূটনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ায় এবং উভয় পক্ষই সামরিক শক্তি প্রদর্শনে অনড় থাকায়, মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.