× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জাতিসংঘের জলবায়ু-সতর্কতা

ধেয়ে আসছে তীব্র ‘সুপার এল নিনো’

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ এএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ এএম

ধেয়ে আসা তীব্র ‘এল নিনো’র প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দিতে পারে নজিরবিহীন খরা ও তীব্র দাবদাহ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশ দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার একটি নতুন ও ভয়াবহ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই চাপে থাকা বৈশ্বিক তাপমাত্রা এই প্রভাবে আরও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে, যা বিশ্বের একটি বড় অংশজুড়ে চরমভাবাপন্ন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বয়ে আনবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) মঙ্গলবার (৩ জুন) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে এই ‘এল নিনো’ পর্যায়টি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা ইতিহাসের অন্যতম তীব্র বা একটি ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের এই পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা দেখা দেবে। এই আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে একদিকে যেমন দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, হর্ন অব আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ায় ভারী বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার (বাংলাদেশসহ) কিছু অংশে তীব্র খরা ও দাবদাহ দেখা দিতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, “আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা খরা ও ভারী বৃষ্টিকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং স্থল ও মহাসাগর উভয় ক্ষেত্রেই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ইতিমধ্যে আমাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক জলবায়ু সংকটের একটি। এই পরিস্থিতি তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি, পতঙ্গবাহী রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানিব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে, যা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে চরম সংকটে ফেলবে।”

আন্তর্জাতিক জলবায়ু তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়াজুড়ে আরও গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক ফসল ও খাদ্য সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী সারসংকট ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে কৃষকেরা ইতিমধ্যে যে সংকটে রয়েছেন, এই খরা সেই পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডব্লিউএমও এও জানিয়েছে, এল নিনোর চূড়ান্ত তীব্রতা নিয়ে এখনো সামান্য অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ কিছু গাণিতিক মডেল এখনই চরম শক্তিশালী রূপের পূর্বাভাস দিচ্ছে না। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ববাসীকে জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু–সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণ হতে থাকা বিশ্বে আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করবে।”


তথ্যসূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.