তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার শীর্ষ আসামিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইশারায় মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা দাবি করেন, তাঁর তৎকালীন সরকারের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ওই খুনিকে গ্রেপ্তার করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ফোন করে দেশের স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৩ জুন) কলকাতার ধর্মতলায় এক বিশাল জনসভায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নাম উল্লেখ না করে তিনি এই নজিরবিহীন তোপ দাগেন।
গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর এটিই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক জনসভা। তিনি বলেন, ‘‘এনআইএ, ইডি কিংবা সিবিআইয়ের ভয় দেখাচ্ছেন? এই সিআইডি ও এসটিএফ আমার আমলেও ছিল, কিন্তু তারা এভাবে অন্যায় কাজ করত না। বাংলাদেশ থেকে আসা এক বড় খুনিকে আমাদের এসটিএফ ধরেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক তোলপাড় হয়েছিল।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তখন হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আপ থোড়া আপকে বেঙ্গল পুলিশকো বোল দো, ইয়ে বাত বাহার নেহি কেহনে কে লিয়ে। ইয়ে দেশ কে লিয়ে হ্যায়’ (আপনি একটু আপনার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বলে দিন, যাতে এই কথা তারা বাইরে না বলে। এটা দেশের জন্য করা হয়েছে)।’’
জনসভায় উপস্থিত তৃণমূল সমর্থকেরা এ সময় চিৎকার করে ওই খুনির নাম জানতে চাইলে মমতা তা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘‘নামটা বলব না দেশের স্বার্থে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, কারণ আমি দেশকে ভালোবাসি। তবে আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে মুখ খুলতে বাধ্য হলাম।’’
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন, আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথাভান্ডার, তথ্যভান্ডার, সত্যভান্ডার।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং দলীয় বিধায়কদের সাম্প্রতিক বিদ্রোহের মুখে ধর্মতলার এই জনসভা থেকে অমিত শাহর বিরুদ্ধে এমন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত দিল্লির ওপর উল্টো রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন। এই বিস্ফোরক দাবি আগামী দিনগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
