ইরানের রাজধানী তেহরানে উদ্বোধন করা হলো পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক ক্যানসার বিশেষায়িত হাসপাতাল। ক্যানসার প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসার লক্ষ্যে জাতীয় বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র হিসেবে ৬০ হাজার বর্গমিটার আয়তনজুড়ে এই বিশাল চিকিৎসাকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ‘ইরান ক্যানসার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল’-এর এই নতুন ১৮ তলা বিশিষ্ট ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দেশটির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফারকান্দি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ৬১০টিরও বেশি শয্যাবিশিষ্ট এই মেগা প্রকল্পটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অর্জন। হাসপাতালটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি স্থাপনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ বিলিয়ন তুমান ব্যয় হয়েছে। সম্পূর্ণ সচল হওয়া এই ইনস্টিটিউটে রয়েছে ৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগ, ১১টি ইমেজিং ও রেডিওথেরাপি যন্ত্র এবং ৯৬টি সর্বাধুনিক কেমোথেরাপি শয্যা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফারকান্দি বলেন, “কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এমন একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রমাণ করে যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জনগণের সেবা অব্যাহত রাখতে এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্প যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও চালু হয়েছে, যা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ যেকোনো সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা বৈঠকেও তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে এই দৃঢ়তা তুলে ধরেছেন। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মতো সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও ইরানের স্বাস্থ্য খাত জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া থেকে একবিন্দু বিচ্যুত হয়নি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক ক্যানসার ইনস্টিটিউট চালুর ফলে কেবল ইরানের নাগরিকেরাই নন, বরং উন্নত চিকিৎসার খোঁজে থাকা সমগ্র পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের রোগীরা স্বল্প খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরানের এমন স্বনির্ভর চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরি চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।