বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি বিমান হামলার স্থান থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হচ্ছে। ফাইল ছবি
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে অবশেষে “পারস্পরিক হামলা বন্ধের” একটি মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। তবে এই দ্বিপক্ষীয় সম্মতির মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বৈরুতে আক্রমণ বন্ধ হলেও দক্ষিণ লেবাননে তাদের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবানন দূতাবাস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতি সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লেবানন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধের বিপরীতে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট ও ড্রোন হামলা থেকে বিরত থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধে একমত হয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না এবং যেসব সেনা সেখানে যাচ্ছিল, তাদেরকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’’
তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে এই সমঝোতার ঘোষণার পরও আজ দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে মৃদু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দু’টি গ্রামের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনাদের লক্ষ্য করে তিনটি ড্রোন ও কামান হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবানন থেকে ছোড়া দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’ দেশটির ডেব্বিন শহরে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে।
সমঝোতা প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘‘হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহরগুলো ও বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতের ওপর হামলা চলবে।’’
এদিকে লেবানন সংকটকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সংঘাত-সংশ্লিষ্ট সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য, একটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব এলাকায় তা লঙ্ঘন করা।’’ তেহরানের বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করার পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করার কথা ভাবছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। গতকাল সোমবারও বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ ডলার বেড়ে ৯৭ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি স্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করলেও, লেবানন ফ্রন্টে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে অস্থিরতা বজায় থাকবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
