নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর থামেল এলাকার একটি হোটেল থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন স্ক্যাম চক্রের সাথে জড়িত ১৫ জন বাংলাদেশিসহ ১৯ বিদেশিকে গ্রেপ্তারের পর কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক আলামত জব্দ করা হয়। প্রতীকী ছবি
কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের আদলে নেপালে বসে আন্তর্জাতিক অনলাইন স্ক্যাম (প্রতারণা) সেন্টার পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে ১৫ জন বাংলাদেশিসহ ১৯ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কাঠমান্ডু পুলিশ। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একজন পলাতক চীনা নাগরিকের অধীনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন।
গত শুক্রবার (২৯ মে) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রধান পর্যটন এলাকা থামেলের একটি হোটেল থেকে এই ১৫ জন বাংলাদেশি এবং ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়।
নেপাল পুলিশের কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের মুখপাত্র ও পুলিশ সুপার রামেশ্বর কার্কি বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একজন চীনা নাগরিকের চালানো একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন। ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, আমরা তাকে খুঁজছি।”
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই আগে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করেছেন। কম্বোডিয়ায় পরিচয় হওয়া ওই চীনা অপারেটরের প্রলোভনেই তারা নেপালে এসে এই চক্রের সাথে যুক্ত হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি স্থানীয় নেপালি নাগরিকদের টার্গেট করত না। মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বিশেষ করে পুরুষদের টার্গেট করে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কাজ।
স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার জন্য পলাতক ওই চীনা নাগরিক থামেল এলাকার একটি পুরো হোটেল প্রতি মাসে সাত লাখ নেপালি রুপির বিনিময়ে লিজ নিয়েছিলেন। শুক্রবারের এই বিশেষ অভিযানের সময় আস্তানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য আধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস।
গ্রেপ্তারকৃত ১৯ জনকেই পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধের ধরন ও বিদেশি নাগরিকত্বের কারণে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ দেশে ‘ডিপোর্ট’ বা বহিষ্কার করা হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে নেপাল পুলিশ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর নেপালের মতো পর্যটনপ্রধান দেশে এই আন্তর্জাতিক স্ক্যাম চক্রের নেটওয়ার্ক বিস্তার করার ঘটনাটি আঞ্চলিক সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
