লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলার প্রতিবাদে ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজা ও লেবানন সংক্রান্ত তাদের এবং প্রতিরোধ অক্ষের (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) শর্ত ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও পরোক্ষ সংলাপ বন্ধ থাকবে।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই ও বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। ইসরায়েল তা লঙ্গন করায় তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তানিমের প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান এখন আরও কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একই সাথে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালিসহ অন্যান্য রণক্ষেত্রগুলো সচল করে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়েও প্রতিরোধ অক্ষের সাথে আলোচনা করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পরোক্ষ সংলাপ থেকে ইরানের এই আকস্মিক প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। গাজা ও লেবানন ফ্রন্টে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে এবং মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক চ্যানেল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার বড় প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি