× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ৭

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ১৭:১৭ পিএম । আপডেটঃ ০১ জুন ২০২৬, ১৯:১৬ পিএম

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কুয়েতের মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ সোমবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় চার মার্কিন সেনা ও তিনজন বেসামরিক ঠিকাদারসহ মোট সাতজন আহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই এই হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে অতি সম্প্রতি চালানো মার্কিন বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, কুয়েতের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই মূলত সেনা ও ঠিকাদারেরা আহত হয়েছেন।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে আরেকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ঠিক সেই মার্কিন ঘাঁটিটি লক্ষ্য করেই এই সফল হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে সিরিক দ্বীপে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার এবং এর জন্য ওয়াশিংটনই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইল যৌথ জোটের সাথে ইরানের যে প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হয়েছিল এবং যার প্রেক্ষিতে তেহরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, মূলত সেই ধারাবাহিকতারই নতুন রূপ এই সাম্প্রতিক হামলা। এরপর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী কোনো স্থিতিশীলতা বা টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কূটনীতির বিষয়ে বেশ আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আসলে এই মুহূর্তে আমেরিকার সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী।

ইরানের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান নেওয়া মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প একে ‘অনর্থক কিচিরমিচির’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে চলছে তা দেখতে থাকুন, শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগী দেশগুলোর জন্যই চূড়ান্ত মঙ্গল বয়ে আনবে।

বর্তমানে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটিকে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের কাছে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। তবে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রত্যক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


তথ্যসূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.