× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

'অনুপ্রবেশ' কার্ডে বাংলায় হিন্দুত্ববাদের বিস্তার, আসামের ছকে হাঁটছেন শুভেন্দু

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

৩০ মে ২০২৬, ২১:৩৮ পিএম । আপডেটঃ ৩১ মে ২০২৬, ০০:৪৮ এএম

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পথ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও কথিত 'অনুপ্রবেশ' ইস্যুকে মূল রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বাঞ্চলে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে দুই রাজ্যেই এখন একই ছক ব্যবহার করছে বিজেপি। ফাইল ছবি: এএনআই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নথিপত্রহীন অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলা করাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। আসামের উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার চেনা ছক অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে 'চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং ফেরত পাঠানো' (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতি কার্যকর করা হচ্ছে, যা ভারতের সমগ্র পূর্বাঞ্চলে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সুরক্ষার নামে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ২৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সব জেলায় 'হোল্ডিং সেন্টার' বা আটক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনগুলোকে জরুরি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আটক বিদেশি এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দীদের এই সেন্টারগুলোতে রাখা হবে।

একই সঙ্গে, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সুবিধার্থে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে রাজ্য সরকার। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখে অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণের বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সাঁড়াশি অভিযানে অমুসলিম বা হিন্দুরা কোনো সংকটে পড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) ঢাল ব্যবহার করে দলটির ভোট ব্যাংক সুরক্ষিত রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "যাঁরা সিএএ-এর আওতায় আছেন, তাঁরা এই রাজ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে যাঁরা এই আইন দ্বারা সুরক্ষিত নন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং ফেরত পাঠাতে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে।"

উল্লেখ্য, সিএএ অনুসারে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, মুসলিমদের এই আইনি সুরক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

উত্তর ও মধ্য ভারতে যেখানে মধ্যযুগীয় মসজিদ ভেঙে মন্দির পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটেছে, সেখানে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির মূল জ্বালানি 'অবৈধ অনুপ্রবেশের' জাতীয়তাবাদী জুজু। আসামে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই তাস খেলে বিজেপি আজ প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, "আসামে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ প্রায় শেষ, এখন পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রুট যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।"

তবে এই অঞ্চলের আরেক রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপির কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাজ্জান কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ত্রিপুরাতেও বাংলাভাষী মানুষের অনুপ্রবেশ আদিবাসীদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। কিন্তু সেখানে বিজেপি এটিকে বড় ইস্যু করেনি। কারণ অনুপ্রবেশকারীদের বিশাল অংশই হিন্দু এবং তাদের বাঙালি ভোটের ওপর ভিত্তি করেই বিজেপি সেখানে রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছে।"

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবীদের উদারপন্থী আলোচনা ও 'বাঙালি উপজাতীয়তাবাদ' (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক একক সত্তা) ধারণার কারণে বাংলায় উগ্র হিন্দুত্ববাদ শিকড় গাড়তে পারেনি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-তোলাবাজির অভিযোগ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতিবাদের রাজনীতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি সেই মনস্তাত্ত্বিক দুর্গ ভেঙে ফেলেছে। আরএসএস-সংশ্লিষ্ট বিদ্যাভারতীর প্রধান রবি রঞ্জন সেনের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের মার্জিত ভাষা আর শুভেন্দুর আগ্রাসী মেজাজ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই এবার কলকাতার মন জয় করেছে সংঘ পরিবার।

পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পালাবদল এবং আসামের ছকে প্রশাসনিক দমনপীড়ন মূলত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্ব ভারতে এক দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক মেরুকরণ সম্পন্ন হতে চলেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ ভূ-রাজনীতিতে তো বটেই, বাংলাদেশ সংলগ্ন এই সীমান্ত রাজ্যে দিল্লির এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।


তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.