× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আরব সাগরে পাকিস্তানের নতুন ‘মিসাইল শিল্ড’, চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় রণতরী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ১৩:০৪ পিএম । আপডেটঃ ২৫ মে ২০২৬, ১৬:০৬ পিএম

আরব সাগরের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পি-২৮২ "স্ম্যাশ" সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। প্রতীকী ছবি

আরব সাগরে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বাড়াতে এবং প্রতিপক্ষের নৌবাহিনীকে চাপে রাখতে এক বড় প্রতিরক্ষা কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনী তাদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘ফেজ-২’ প্রকল্প চালু করেছে, যার মূল আকর্ষণ সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পি-২৮২ "স্ম্যাশ" সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তানের 'অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়াল' ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে ভারতের বিমানবাহী রণতরী বা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বিশাল এবং ব্যয়বহুল নৌবহর তৈরি না করেও কীভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সাগরে পরাস্ত করা যায়—পাকিস্তান এখন সেই সামরিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার পুরনো সাবসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগ শেষ করে এখন শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী (সুপারসনিক) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে ইসলামাবাদ।

করাচির মেরিটাইম টেকনোলজিস কমপ্লেক্স (এমটিসি) কর্তৃক তৈরি প্রায় ৯ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে রয়েছে প্রায় ৩৮৪ কেজি ওজনের উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড। এটি উপকূলীয় মোবাইল লঞ্চার এবং যুদ্ধজাহাজ—উভয় প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

উৎক্ষেপণের পর শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ (ম্যাক ২.৫+) বেশি গতিতে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। উপরন্তু, এটি উপর থেকে একদম খাড়াভাবে নিচে নেমে আসে এবং মাঝআকাশে পথ পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে শত্রু জাহাজের রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

ভারতের নৌ-ডকট্রিন মূলত আইএনএস বিক্রান্ত বা আইএনএস বিক্রমাদিত্য-র মতো বড় বড় বিমানবাহী রণতরীর মাধ্যমে সাগরে শক্তি প্রদর্শনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পাকিস্তানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারণে ভারতীয় রণতরীগুলোকে এখন পাকিস্তানের উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হতে হবে।

উপকূল থেকে রণতরীর দূরত্ব যত বাড়বে, তার ফাইটার জেটের কার্যক্ষমতা এবং সাড়াদানের গতি ততই কমে যাবে। ফলে যেকোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এটি ভারতের জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তানের এই উপকূলীয় সুরক্ষার পেছনে কৌশলগত অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং কৌশলগত গোয়াদর বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এই 'স্ম্যাশ' ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে চীনের অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মিল খুঁজে পাচ্ছেন, যদিও পাকিস্তান একে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি বলে দাবি করেছে। তবে কাগজে-কলমে এই প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বড় শক্তির উৎস হলেও বাস্তব যুদ্ধে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন একাংশ।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আক্রমণের জন্য শক্তিশালী রাডার ও রিয়েল-টাইম ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন। এছাড়া ভারতের 'বারাক-৮'-এর মতো দূরপাল্লার আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রকে কতটা রুখে দিতে পারে, তাও এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়।"

প্রযুক্তিগত ও কার্যকারিতার বিতর্ক যাই থাক, আরব সাগরে পাকিস্তানের এই নতুন 'মিসাইল শিল্ড' বা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাচীর যে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে—তা স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ফলে আরব সাগরে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর নৌ-ভারসাম্য নতুন রূপ নিতে পারে। ভারতের সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপরই এখন নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।


তথ্যসূত্র: ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.