× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ বাড়াতে এবার প্রতি জেলায় আটক শিবির করছে ভারত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ০৩:১৪ এএম । আপডেটঃ ২৫ মে ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারেই সীমান্ত দিয়ে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের পুশ-ব্যাক করা হয়, সীমান্তে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর এমন একটি তৎপরতার দৃশ্য। প্রতীকী ছবি

কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি নাগরিকদেরও এসব শিবিরে রাখা হবে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের আটক শিবির তৈরি করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন বিতর্কিত ও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই আকস্মিক নির্দেশিকার পর প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার শিকার হওয়ার আশঙ্কা ও মানবাধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো একটি সরকারি নোটে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বেআইনিভাবে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণ’ পদ্ধতি সংক্রান্ত গত বছরের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে।

ভারতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) করা হবে; রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই সাম্প্রতিক নির্দেশিকা তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছরের ২২শে এপ্রিল ভারত শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর গুজরাত, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি ও ওড়িশাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সে সময় হাজার হাজার মানুষকে আটক করে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছিল, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া প্রকৃত ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিক।

কেবল বাংলায় কথা বলা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের হোল্ডিং সেন্টারে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিক ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকেও আটক রাখা হয়েছিল। সেখানে হেনস্তা, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।"

হোল্ডিং সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করে রিপোর্ট পাঠাতে হয়। এই সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট না এলে সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরআরও) ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা নেন।

তবে এই প্রক্রিয়ায় চরম সমন্বয়হীনতা ও ভুলের কারণে অনেক প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককেও বাংলাদেশে ‘পুশ-আউট’ বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে বহুল সমালোচনার জন্ম দেয়। পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন, মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখকে ভুলবশত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের আটক শিবির স্থাপনের যৌক্তিকতা এবং এর পেছনে প্রকৃত তথ্যের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিকারকর্মীরা। কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়াই এই ধরনের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু রাজ্য বলেন, "এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ার দরকারটা কেন পড়ল? কতজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা আছেন পশ্চিমবঙ্গে? সেই তথ্য রাজ্য সরকার আগে দিক! আমি তথ্যের অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কতজনকে আটক বা পুশ-ব্যাক করা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই উত্তর এখনও পাইনি।"

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিচার এবং কারাভোগের পর কূটনৈতিক মাধ্যমে প্রত্যর্পণের নিয়ম থাকলেও, নতুন এই ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ ও জেলাভিত্তিক ‘আটক শিবির’ ব্যবস্থা সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জনমিতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্পর্শকাতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোল্ডিং সেন্টার থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি। প্রতীকী ছবি



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.