হোয়াইট হাউসের সংলগ্ন এলাকায় কড়া পাহারায় নিয়োজিত সশস্ত্র পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরে এক বন্দুকধারীর আকস্মিক গুলিবর্ষণের পর সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। তবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারণে প্রেসিডেন্টসহ সুরক্ষিত কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এ ঘটনায় বিঘ্নিত হয়নি।
সিক্রেট সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এক সশস্ত্র ব্যক্তি আকস্মিকভাবে নিজের ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে উপস্থিত সিক্রেট সার্ভিস পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালায়। এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই গোলাগুলির ঘটনায় একজন পথচারীও আহত হয়েছেন, তবে সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মকর্তা আঘাত পাননি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ২১ বছর বয়সী ‘নাসেয়ার বেস্ট’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে এটিই তার প্রথম অপরাধমূলক তৎপরতা নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই নাসেয়ার বেস্ট হোয়াইট হাউসে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় সিক্রেট সার্ভিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনার পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যজনিত গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ায় তাকে একটি মনোরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল।
গুলির শব্দ শোনা মাত্রই হোয়াইট হাউসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনের ভেতরের প্রেস ব্রিফিং কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুরো এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদক সেলিনা ওয়াং বলেন, "মনে হচ্ছিল ডজনখানেক গুলির শব্দ হচ্ছে। আমাদের দ্রুত দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলা হয়েছিল, আর এখন আমরা সেখানেই অবস্থান করছি।"
ঘটনার পর থেকে হোয়াইট হাউসের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বাসভবনের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা টম বেনেট জানান, "আমি দুইজন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা ঘটনাটি পর্যালোচনা করছেন এবং সম্ভবত পুরো রাতজুড়েই রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হবে।"
ওয়াশিংটন ডিসির অন্য প্রান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও হোয়াইট হাউস জোনে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে এই হামলার পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
-6a1325c4d3d1a.jpg)
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
