× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চীনে খনি বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ৯০, আটকা পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ১৯:৪৩ পিএম । আপডেটঃ ২৩ মে ২০২৬, ২১:৪৩ পিএম

চীনের শানঝি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন শত শত উদ্ধারকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানঝি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে (১১:২৯ জিএমটি) শানঝি প্রদেশের 'থংচৌ গ্রুপ' পরিচালিত লিউশেনইউ কয়লা খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভে ২৪৭ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন, যাদের মধ্যে শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো সুড়ঙ্গের ভেতর উদ্ধার অভিযান চলছে বলে আজ শনিবার নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বিষাক্ত গ্যাসের চাদরে চাপা পড়ল খনি

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুর্ঘটনার সময় খনির অভ্যন্তরে অত্যন্ত বিষাক্ত ও গন্ধহীন 'কার্বন মনোক্সাইড' গ্যাসের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অনেক ওপরে চলে গিয়েছিল।

দুর্ঘটনার পরপরই চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় খনি এলাকায় বিশেষায়িত ৬টি উদ্ধারকারী দলের ৩৪৫ জন দক্ষ কর্মী পাঠিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতেও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে মুখরিত খনি এলাকায় প্যারামেডিকরা স্ট্রেচার হাতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।

খনি ট্র্যাজেডির এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর জন্য উদ্ধারকারীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, “বেঁচে থাকাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। অনতিবিলম্বে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনুন।”

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কয়লা খনিটি পরিচালনাকারী শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চীনের অন্যতম দরিদ্র প্রদেশ শানঝিকে দেশটির ‘কয়লা রাজধানী’ বলা হয়। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে চীনের কয়লা খনিগুলোতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নিয়মিত চিত্র ছিল।

পরবর্তী সময়ে বেইজিং খনি নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত খনি ধসে ৫৩ জন এবং ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশে খনি বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। যদিও দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড গতিতে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবুও দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও শিল্পোৎপাদন এখনো কয়লা খনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা চীনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা নীতিমালার কঠোরতা এবং খনি শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষার প্রশ্নটিকে বিশ্বমঞ্চে আবারও বড় ধরনের বিতর্কের মুখে দাঁড় করালো।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.