× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, কাটেনি ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির জট

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ০২:৩২ এএম । আপডেটঃ ২৩ মে ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তান এই কূটনৈতিক মধ্যস্থতা চালাচ্ছে। ছবি: তাসনিম নিউজের সৌজন্যে

বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরিতে বড় ধরনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২২ মে) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে সর্বশেষ বার্তা পৌঁছানোর মাত্র দুই দিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, ইউরেনিয়ামের মজুত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যকার মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ ও আইএসএনএ জানিয়েছে, গত ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার ধারাবাহিকতাতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আজ ১২তম সপ্তাহে পদার্পণ করেছে এই সংঘাত।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তৈরি করতেই পাকিস্তান এই আলোচনার মূল উদ্যোগ নিয়েছে।

আলোচনায় কিছু ‘ভালো লক্ষণ’ দেখার কথা স্বীকার করলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের চেষ্টা করলে কোনো সমাধান সম্ভব নয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করবে এবং তা ধ্বংস করে দেবে। ওদের কাছে এগুলো রাখতে দেওয়া হবে না। আমরা জলপথটি উন্মুক্ত দেখতে চাই, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো টোল আমরা মেনে নেব না।"

পাল্টা অবস্থানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও অনড়। ইরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে এই ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যাবে না। এছাড়া, ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের শর্ত মেনে চলা বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য তারা প্রণালিটি খুলে দিতে প্রস্তুত, তবে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা টোল দিতে হতে পারে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান ওয়াশিংটনের কাছে যে প্রস্তাব জমা দিয়েছে, তাতে মূলত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো পুরোনো শর্তগুলোরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা ট্রাম্প আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর আগে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত এবং বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো, তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিশ্ববাজার চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার জেরে আজ মার্কিন ডলারের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তেলের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণভাবেও তীব্র চাপে আছেন ট্রাম্প, কারণ তেলের চড়া দামে ক্ষুব্ধ মার্কিন নাগরিকদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বলেন, "যুদ্ধবিরতিরও ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু আমার এখনো মনে হচ্ছে না যে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি।"

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করা। তবে মারাত্মক সামরিক অভিযানের পরও ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রেখেছে এবং ড্রোন ও প্রক্সি মিলিশিয়া দিয়ে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা সফল না হলে আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মন্দার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.