× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মজুত ধরে রাখতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ০১:৫৭ এএম । আপডেটঃ ২৩ মে ২০২৬, ০২:০৩ এএম

ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও। ১৯ মে ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে নিজেদের গোলাবারুদের মজুত সুরক্ষিত রাখতে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি (১৪ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে মার্কিন নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কৌশলগত ঘোষণা এল।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে এখনো যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। মার্কিন নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও সিনেট শুনানিতে বলেন, "এ মুহূর্তে আমরা অস্ত্র বিক্রিতে সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যেন ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ আমাদের নিজেদের হাতে থাকে। যদিও আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। সবকিছু নিশ্চিত করা হচ্ছে, পরে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিদেশে আবারও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি শুরু হবে।"

১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের এই রেকর্ড অস্ত্র প্যাকেজটি অনুমোদিত হলে তা হতো তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তরের ঘটনা। মার্কিন কংগ্রেস গত জানুয়ারিতে এই প্যাকেজ অনুমোদন করলেও এটি বাস্তবায়নে এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সই প্রয়োজন। এই চুক্তিটি কার্যকর হলে তা গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের অনুমোদিত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পূর্ববর্তী রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেত।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক স্থগিতাদেশের পরও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি থেকে পিছিয়ে আসছে না তাইপে। শুক্রবার (২২ মে) তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম এফটিভি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

তবে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ ও সন্দেহ আরও বাড়াবে। এর ফলে ভবিষ্যতে তাইওয়ান সরকারের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ চাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

হোয়াট হাউসের এই সিদ্ধান্ত কেবল সামরিক কৌশলের অংশ নয়, বরং একে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি বড় রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন "করতেও পারেন, আবার না–ও করতে পারেন"। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে দর-কষাকষিতে এই অস্ত্র চুক্তিকে একটি ‘আলোচনার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের গত কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

চীন বরাবরই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং সেখানে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। যদিও ১৯৭৯ সালের 'তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট' অনুযায়ী ওয়াশিংটন দ্বীপটির সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রতিষ্ঠিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছেন, অস্ত্র চুক্তি নিয়ে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যদি এই ফোনালাপ বা সরাসরি আলোচনা সম্পন্ন হয়, তবে তা হবে গত চার দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রথার সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন, যা ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।


তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.