একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে বক্তব্য রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি: আইআইএসএস মানামা সংলাপের ভিডিও থেকে নেওয়া
পারিবারিক সংকটের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা পদ ‘জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক’ (ডিএনআই) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তাঁর স্বামীর বিরল ক্যানসার ধরা পড়ায় তাঁর পাশে থাকতে আগামী ৩০ জুন থেকে এই দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়াবেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক এই কংগ্রেস সদস্য পারিবারিক কারণের কথা উল্লেখ করলেও, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র দাবি করেছে যে প্রশাসন থেকেই তাঁকে বিদায় নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক আবেগঘন চিঠিতে তুলসী গ্যাবার্ড নিজের এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠিতে তিনি লেখেন, ৩০ জুন ২০২৬ থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।
স্বামীর অসুস্থতার বিষয়ে চিঠিতে গ্যাবার্ড লিখেছেন, "আমার স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি অতি বিরল ধরনের বোন ক্যানসার (অস্থির ক্যানসার) ধরা পড়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে সে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে। এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকা এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্য আমার অবশ্যই সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।"
তবে এই মানবিক কারণের আড়ালে ভিন্ন এক রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছে ওয়াশিংটনের একটি মহল। ঘটনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র ভিন্ন দাবি করে জানিয়েছে, মূলত হোয়াইট হাউস থেকেই তুলসী গ্যাবার্ডকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিগত মতবিরোধ
গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুলসী গ্যাবার্ডকে এই শীর্ষ গোয়েন্দা পদে মনোনীত করে বড় চমক দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে গ্যাবার্ডের স্পষ্ট মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
গত মার্চ মাসে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বক্তব্যে ইরান নিয়ে গ্যাবার্ডের অবস্থানের প্রতি অসন্তোষ ও অমিলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব কঠোর অবস্থানের তুলনায় তুলসী গ্যাবার্ড অনেকটাই ‘নমনীয়’। এই নীতিগত দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পদটি সৃষ্টি হয়েছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর। মার্কিন কংগ্রেসের বিশেষ আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট এই পদটি মূলত সিআইএসহ দেশটির সবকটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার মূল সমন্বয়ক ও প্রধান জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে কাজ করে।
তুলসী গ্যাবার্ডের বিদায়ের ঘোষণার পর এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির সময়ে এবং বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ে যেন কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য দ্রুতই নতুন কোনো নাম ঘোষণা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গ্যাবার্ডের উত্তরসূরি হিসেবে কে আসছেন—তার ওপর আগামী দিনে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি অনেকটাই নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
