রাজ্য সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এখন থেকে কোনো কর্মী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে বা তাদের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে সরকারের কোনো নীতির নেতিবাচক সমালোচনাও করা যাবে না। গত ২০ মে (বুধবার) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
নতুন এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (আইএএস/আইপিএস), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস এবং রাজ্য সরকারের আওতাধীন ও সাহায্যপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত সমস্ত কর্মচারীকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আগে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।
সমালোচকদের মতে, এই নির্দেশিকা প্রকারান্তরে সরকারি কর্মচারীদের মুখ বন্ধ করার একটি প্রয়াস এবং এটি মৌলিক মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, গত সরকারের আমলের একাধিক বড় বড় দুর্নীতির তথ্য এই সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমেই সামনে এসেছিল। ফলে নতুন এই নিয়ম দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দিতে সাহায্য করবে।
তবে এই নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ নতুন বা নজিরবিহীন মানতে নারাজ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ঘনিষ্ঠ মহল। তাদের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির এই নিয়মটি নতুন কিছু নয়।
বিজেপির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "১৯৭৬ সাল থেকেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নিয়মটি বলবৎ রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করেনি। বর্তমান সরকার কেবল বিদ্যমান আইনটিরই যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করছে।"
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে রাজ্য প্রশাসনের ভেতর এক ধরনের অস্বস্তি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আগামী দিনগুলোতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।