× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইসরায়েলি কারাগারে বৈশ্বিক ত্রাণকর্মীদের ওপর বর্বর নির্যাতন, যৌন হয়রানির অভিযোগ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ২২:৩৪ পিএম । আপডেটঃ ২৩ মে ২০২৬, ০০:১১ এএম

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সামনে ইসরায়েলি কারাগারে তাদের ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতনের একটি দৃশ্য।

গাজা উপত্যকার ওপর আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ‘বৈশ্বিক সামুদ নৌ-বহরের’ মুক্তিপ্রাপ্ত ত্রাণ-কর্মীরা ইসরায়েলি কারাগারে তাদের ওপর চালানো ভয়াবহ ও অমানবিক নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে ৪০টিরও বেশি দেশের এসব বেসামরিক কর্মীকে নির্মম মারধর, বৈদ্যুতিক শক, শারীরিক নিপীড়ন এবং নারী বন্দিদের যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর গতকাল অবমুক্ত হওয়া কর্মীরা তাদের শরীরে থাকা নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে এই লোমহর্ষক সাক্ষ্য দেন।

আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির বোন ও পেশায় চিকিৎসক মার্গারেট কনোলি বলেন, “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অমানবিক। প্রায় ৫০ জন নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে তিন দিন ধরে একটি নোংরা ধাতব কন্টেইনারে আটকে রাখা হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, সেই কন্টেইনারে পর্যাপ্ত খাবার বা পানি ছিল না। এমনকি সাবান বা টয়লেট টিস্যুর মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম কোনো সামগ্রীও তাদের সরবরাহ করা হয়নি।

ত্রাণ-কর্মীদের দেওয়া তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে তাদের অপহরণের পরপরই যুদ্ধজাহাজে থাকা ধাতব কন্টেইনারগুলোকে সাময়িক আটককেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়। সেখানে তাদের তীব্র শীতের মধ্যে পাথরের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছিল।

কানাডিয়ান নাগরিক মাইকেল ফ্রান্স বলেন, “সেখানে আমাদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন চালানো হয়। বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনারা তাদের ভারী সামরিক বুট দিয়ে আমাদের খালি পায়ে লাথি মারত এবং মাথা ও মুখে অনবরত আঘাত করত।”

কারাগারে মানবিক সহায়তাকারীদের ওপর চালানো হিংস্রতার কোনো সীমা ছিল না। কানাডিয়ান কর্মী ইহাব লতিফ জানান, তিনি যখন অন্যান্য বন্দিদের মধ্যে পানি বিতরণ ও কথোপকথন অনুবাদের চেষ্টা করছিলেন, তখন এক ইসরায়েলি সেনা তার হাতে সরাসরি ছুরি দিয়ে আঘাত করে।


“ছুঁড়ির আঘাতে আমার হাত অবশ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ইচ্ছাকৃত শাস্তি হিসেবে আমাদের আরও কয়েকজন কর্মীর পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
— ইহাব লতিফ, কানাডিয়ান ত্রাণ-কর্মী।


অনুরূপ নির্যাতনের শিকার ‘মাজিদ’ নামের আরেক কর্মী জানান, তাকে এবং তার এক সহকর্মীকে অত্যন্ত কাছ থেকে পায়ের দিকে লক্ষ্য করে প্লাস্টিক বুলেট ছোড়া হয়েছিল। এরপর প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা সহানুভূতি ছাড়াই তাদের রক্তাক্ত ও যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মাজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নির্মম অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর সামনে ইসরায়েলের প্রকৃত ও পাশবিক চেহারা উম্মোচন করেছে।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই বর্বরতা থেকে নারী বন্দিরাও রেহাই পাননি। ইসরায়েলি কারারক্ষীরা নারী ত্রাণ-কর্মীদের অবরুদ্ধ করার পর তাদের ওপর সরাসরি হাত তোলে এবং তীব্র মারধর করে। একই সাথে বন্দিশালায় তাদের চরম অপমানজনকভাবে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।

বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত ত্রাণ-কর্মীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পানিসীমায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধরনের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে আটককেন্দ্রে যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য নির্যাতনের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র আইনি ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.