সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
চলমান ইরান যুদ্ধে বোমারু বিমান, ড্রোন ও নজরদারি বিমানসহ নিজেদের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একই সাথে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সামরিক ব্যয় ইতিমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি (২৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির সবচেয়ে বড় খতিয়ান। যদিও তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট বলেন, "খরচ বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের যেসব অস্ত্রশস্ত্র বা যন্ত্রপাতি ভেঙেছে বা নষ্ট হয়েছে, সেগুলো মেরামত করতে অথবা সেগুলোর বদলে নতুন সরঞ্জাম কিনতে আসলে কত অর্থ লাগবে, তার একটি নিখুঁত হিসাব আমরা এখন পেয়েছি।"
সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি বহুল আলোচিত এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান, চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কবার্তা সংবলিত বিমান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ পর্যালোচনা করে এই তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি।
মার্কিন কংগ্রেসের এই স্বীকৃতি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রতিবেদনটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, "আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই যে তাদের বহুল আলোচিত এফ-৩৫ প্রথম ভূপাতিত করেছে, সেটি এখন নিশ্চিত হলো। ট্রাম্প যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তবে তেহরান অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মার্কিন বাহিনীর সামনে আরও অনেক চমক হাজির করবে।"
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন বিশ্বমঞ্চে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মনস্তাত্ত্বিক দেওয়ালে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল ও নীতিনির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
