× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘প্রশ্ন করাই আমার কাজ’—মোদীকে অস্বস্তিতে ফেলা সেই নরওয়ের সাংবাদিকের মুখোমুখি বিবিসি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ০০:১২ এএম । আপডেটঃ ২১ মে ২০২৬, ০০:১৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশ্ন করেছিলেন নরওয়ের সাংবাদিক হেলা ল্যাং (বাঁয়ে)।

পাঁচ দেশের ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন বর্জন এবং পরবর্তীতে দেশটির এক নারী সাংবাদিকের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারতের ঘরোয়া রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি শেষে নরেন্দ্র মোদী কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার সময় নরওয়েজীয় দৈনিক দাক্সতাভিস-এর সাংবাদিক হেলা ল্যাং চিৎকার করে প্রশ্ন করেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী, আপনি কেন বিশ্বের স্বাধীনতম সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন না?" এই ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাসের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়েও ওই সাংবাদিকের মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার এক একান্ত সাক্ষাৎকারে হেলা ল্যাং বিবিসি হিন্দিকে বলেন, "সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করা আমার দায়িত্ব, আমি কোনো দেশের প্রশংসা শুনতে সংবাদ সম্মেলনে যাই না।"


"নরওয়েতে নেতারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অভ্যস্ত। আমি জানি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন নিতে পছন্দ করেন না, কিন্তু প্রশ্ন করাটা আমার কর্তব্য ছিল। মুখোমুখি সাংবাদিকতার রীতিই হলো কথা থামিয়ে উত্তর আদায় করা।"
— হেলা ল্যাং, সাংবাদিক, দাক্সতাভিস (নরওয়ে)।


বিশ্বে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে নরওয়ে যখন শীর্ষস্থানে, তখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। এই প্রেক্ষাপটে অসলোর ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ এবং মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের সঙ্গে হেলা ল্যাংকের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। হেলা ল্যাং ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের প্রতিশ্রুতি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী কবে নাগাদ সাংবাদিকদের কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন তা জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভারতীয় প্রতিনিধি দল ধাপে ধাপে প্রশ্ন নেওয়ার চেষ্টা করলে ল্যাং তাৎক্ষণিক উত্তরের দাবিতে অনড় থাকেন।

উত্তেজনাপূর্ণ সেই ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সিবি জর্জ তাৎক্ষণিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের ৫ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ভারতের বিশালতা সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা নেই। কিছু অজ্ঞ এনজিওর দেওয়া এক-দুটি প্রতিবেদন পড়ে মানুষ প্রশ্ন করে, শুধু দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল আছে।"


এই আন্তর্জাতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন, "যখন লুকানোর কিছু থাকে না, তখন ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশ্ব যখন দেখে একজন প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি প্রশ্নের ভয়ে চলে যাচ্ছেন, তখন তা ভারতের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত হানে।" অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র ওই সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আপনি সেটাই করেছেন যা আমাদের নিজস্ব গণমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে—ক্ষমতার অধিকারীদের প্রশ্ন করা।"

তবে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবিয়া বিরোধীদের এই সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, "যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। কিন্তু কংগ্রেসের উন্মত্ত পরিমণ্ডল একজন অসংযত সাংবাদিকের ভিত্তিহীন মন্তব্য উদযাপন করছে।"

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নরওয়ে ও সুইডেন সফর শেষ করে বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন। সুইডেনে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেও পুরো সফরজুড়েই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে। নেদারল্যান্ডস সফরের আগেও ডাচ প্রধানমন্ত্রীর করা অনুরূপ এক মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে 'ভারত সম্পর্কে পশ্চিমাদের অজ্ঞতা' বলে অভিহিত করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়লেও, পশ্চিমা দেশগুলোতে মোদী সরকারের সংবাদমাধ্যম নীতির ওপর চাপ ও নজরদারি আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে।



তথ্যসূত্র: বিবিসি


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.