× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মহাসাগরে আধিপত্যের লড়াই

চীনের ‘মুক্তা’ রুখতে আন্দামানে ‘অডুবন্ত রণতরী’ বানাচ্ছে ভারত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ২০:১৪ পিএম । আপডেটঃ ২০ মে ২০২৬, ২৩:০৪ পিএম

ভারত মহাসাগরের বুকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেট নিকোবর দ্বীপের জলসীমায় চলাচল করছে একটি যাত্রীবাহী ফেরি। এই প্রত্যন্ত দ্বীপেই ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মেগাপোর্ট ও সামরিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত। ছবি: এএফপি

ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল গ্রেট নিকোবর দ্বীপে ৯ বিলিয়ন (৯০০ কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি মেগাপোর্ট ও উপশহর নির্মাণ শুরু করেছে ভারত। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ এবং মালাক্কা প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এই দ্বীপে একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য বিমানবন্দর ও দীর্ঘ রানওয়ে আধুনিকায়নের তোড়জোড় চলছে। মূলত আঞ্চলিক জলসীমায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বা ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ নীতিকে রুখে দিতে নয়াদিল্লি তাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অংশ হিসেবে এই কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছে, যা এই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


"গ্রেট নিকোবর দ্বীপের এই প্রকল্পটি ভারতের কৌশলগত, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আগামী দিনে ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় জলপথ ও আকাশপথে যোগাযোগের মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে।"
— নরেন্দ্র মোদি, প্রধানমন্ত্রী, ভারত।


ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ৯১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট দিয়েই বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) তথ্যমতে, গভীরতার অভাবে ভারতের মূল ভূখণ্ডের বন্দরগুলোতে বড় জাহাজ নোঙর করতে না পারায় প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে দেশটি। গ্যালাথিয়া বে-তে প্রস্তাবিত ১ কোটি ৪২ লাখ টিইইউ ধারণক্ষমতার আন্তর্জাতিক কনটেইনার খালাস টার্মিনালটি নির্মিত হলে তা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘লিডস পলিসি ইনস্টিটিউট’ ও লন্ডনভিত্তিক ‘আইআইএসএস’-এর মতে, চীন শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা ও মিয়ানমারসহ ভারত মহাসাগরের চারপাশের বন্দরগুলোতে তাদের সামরিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক বা ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ জোরদার করছে। বেইজিংয়ের এই ধাক্কা সামলাতে ভারত ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান ও আসিয়ানের সঙ্গে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করেছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নিতিন গোখলে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই দ্বীপটি ভারতের জন্য মহাসাগরের বুকে এমন এক রণতরীর মতো, যা কখনো ডোবে না।”

তবে এই বিশাল প্রকল্পের পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটির কারণে দ্বীপের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আদিম অরণ্য উজার করা হবে, যা সেখানে বহিরাগতদের এড়িয়ে চিলতে থাকা প্রায় ১,২০০ আদিবাসীর অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে। পরিবেশ আদালত শর্তসাপেক্ষে ছাড়পত্র দিলেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে হরিয়ানা রাজ্যে চারা রোপণের সরকারি সিদ্ধান্তকে পরিবেশবাদীরা অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।


"এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে তুলে আনা সম্ভব—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই। আর নিকোবরের জঙ্গল কেটে হরিয়ানায় গাছ লাগানোর সরকারি দাবি সম্পূর্ণ অর্থহীন কথাবার্তা।"
— মনীশ চান্ডি, লেখক ও গবেষক।


ভারতের পরিবেশ ও ভূরাজনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বীপপুঞ্জের গভর্নর দেবেন্দ্র কুমার যোশী নিশ্চিত করেছেন, রাজধানী শ্রী বিজয়পুরম এবং গ্রেট নিকোবরে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েবিশিষ্ট দুটি নতুন বিমানবন্দর নির্মিত হচ্ছে। এই সামরিক অবকাঠামো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌ ও বিমান বাহিনীকে চীনের যেকোনো সম্ভাব্য ব্লকেড বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুবিধা দেবে। পরিবেশগত উদ্বেগ ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি আড়ালে রেখে নয়াদিল্লি এখন জাতীয় নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.