× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ট্রাম্পের পর পুতিন বেইজিংয়ে, সব কার্ডই কি এখন চীনের হাতে?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ০২:০৮ এএম । আপডেটঃ ২০ মে ২০২৬, ০২:১০ এএম

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে চীন সফরে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংকটের মাঝে অনুষ্ঠিত এই সফরটিকে বর্তমান বিভক্ত বিশ্বব্যবস্থায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক একক আধিপত্যের বড় শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

বুধবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক সূত্রমতে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’-এর ২৫ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা এই সফরের মূল উপলক্ষ হলেও, এর আড়ালে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের ‘বেপরোয়া’ পররাষ্ট্রনীতি এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে একটি ‘বহুমেরুর বিশ্বব্যবস্থা’ গড়ে তোলাই এই দুই নেতার মূল লক্ষ্য।

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক মেরিনা মিরন আল-জাজিরাকে বলেন, "অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামরিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং এ রকম বিষয়গুলোয় তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হতে যাচ্ছে।"

রাশিয়া-বিষয়ক বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাতভও বলেন, "এই দুই দেশের সম্পর্ক মূলত কৌশলগত। তারা অংশীদার, কৌশলগত অংশীদার হলেও সামরিক মিত্র নয়। আর আমি মনে করি না যে তারা এর চেয়ে বেশি দূর এগোবে।"

বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর পুতিনের এই আগমন প্রমাণ করে যে, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই বেইজিংয়ের নাগালে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা রাশিয়ার জন্য এই মুহূর্তে চীনের সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।

চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া কর্মসূচির ফেলো টিমোথি অ্যাশ মন্তব্য করেছেন, "সির চেয়ে পুতিনেরই এটা বেশি দরকার। ইউক্রেনে পুতিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর রাশিয়া এখন ছোট ও নির্ভরশীল অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প যেমনটা কিছু পাওয়ার আশায় বেইজিংয়ে গিয়েছিলেন, পুতিনও ঠিক সে জন্যই যাবেন। সব কার্ডই এখন চীনের হাতে।"

বর্তমানে রাশিয়া ড্রোন উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা চীনকে ‘ছাড়’ মূল্যে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করছে মস্কো।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনের অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়েছে। স্বল্পমেয়াদে রাশিয়া এই বিশৃঙ্খলা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য উভয় দেশই এই সংঘাতের অবসান চায়।

ট্রাম্পের বেইজিং সফরে ইরান সংকটের কোনো সমাধান না আসায় মস্কো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প যা চেয়েছিলেন, বেইজিং তা দেয়নি। ফলে চীন যে তেহরান বা মস্কোকে ছেড়ে যাচ্ছে না, তা এই সফরে আরও স্পষ্ট হলো।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হলেও চীন মস্কোকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা বেঁধে দেবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বেইজিং নিজেকে একটি ক্রমবর্ধমান বিভক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য এবং বৈরিতা-মুক্ত ‘নিরপেক্ষ পরাশক্তি’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক যৌথ ঘোষণা না এলেও, এই সফর বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার পরপরই রুশ প্রেসিডেন্টকে আতিথেয়তা দিয়ে বেইজিং প্রমাণ করেছে—বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় চীনকে উপেক্ষা করার সাধ্য কারও নেই।


তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.