বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান তুলে ধরছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। ফাইল ছবি
কিউবার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বৈধ অধিকার রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে যেকোনো দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করেছে দেশটি। মঙ্গলবার (১৯ মে) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখপাত্র কুও চিয়া খুন। কিউবার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং হাভানার ওপর ওয়াশিংটনের সামরিক আগ্রাসনের হুমকির প্রেক্ষাপটে বেইজিং এই কড়া বার্তা দিল।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি অবিলম্বে কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বৈষম্যমূলক আচরণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
চীন জানিয়েছে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন নীতি কখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাম্য হতে পারে না। বেইজিং কিউবার পাশে থেকে তাদের উন্নয়ন ও বাঁচার অধিকার রক্ষায় সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
মুখপাত্র কুও চিয়া খুন বলেন, "চীন সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের আওতার বাইরে গিয়ে, যেকোনো ধরনের ভিত্তিহীন ও বেআইনি একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। চীন কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সব ধরনের বলপ্রয়োগের কৌশল ত্যাগ করতে এবং কিউবার জনগণের বাঁচার ও উন্নয়নের অধিকার লঙ্ঘন না করতে তাগিদ দেয়।"
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার, যখন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কিউবার গোয়েন্দা সংস্থার ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই দিনে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তোলেন।
প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, তার দেশ মার্কিন পরাশক্তির প্রত্যক্ষ সামরিক আগ্রাসনের হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের বিরুদ্ধে কিউবার আগ্রাসী অভিপ্রায় নেই। তবে আক্রান্ত হলে নিজেকে রক্ষার পূর্ণ অধিকার কিউবার আছে। যদি এই মার্কিন হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ব্যাপক রক্তপাত ঘটাবে এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে কিউবার প্রতি চীনের এই প্রকাশ্য ও দৃঢ় সমর্থন লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান শীতল সম্পর্কের মধ্যে কিউবাকে কেন্দ্র করে এই দ্বৈরথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
