× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি ইরানের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ০০:১৬ এএম । আপডেটঃ ২০ মে ২০২৬, ০২:০৯ এএম

তেহরানে ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে প্রদর্শিত ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে এক ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু নজিরবিহীন তীব্র’ পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি এবং পরবর্তী সময়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র অজুহাতে তা সাময়িক স্থগিতের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো আঘাত এলে প্রতিদিন শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেলক্ষেত্র ধ্বংস এবং হরমুজ ও বাব আল–মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা হবে।

জার্মান চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, "চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের হিসাব কষে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল। তবে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র। এবার তেহরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যা প্রতিপক্ষের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দেবে।"

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মূল কৌশল হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর চরম ক্ষুব্ধ তেহরানের নীতিনির্ধারকেরা।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক মেহেদি খারাতিয়ান সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে আমরা তার চরম মূল্য আদায় করব। আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।"

এই রণকৌশল কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধমনী হিসেবে পরিচিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে একযোগে অচল করার পরিকল্পনা করছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখলেও, এবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তায় লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল–মান্দেব প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ছক কষছে তারা। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১০ শতাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়।

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ মনে করেন, তেহরানের এই অবস্থান কোনো ফাঁকা বুলি নয়। এক ই-মেইলে তিনি জানান, "বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত মনে হোক না কেন, এগুলো আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে। তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।"

আঞ্চলিক এই ভূ-রাজনীতিতে সৌদি-ইরান সম্ভাব্য ‘অনাক্রমণ চুক্তি’র গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র হুতি মিলিশিয়ারা তেহরানকে রক্ষার অঙ্গীকার করলেও, নিজেদের সামরিক মজুত ফুরিয়ে আসার শঙ্কায় এবার তারা কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে—তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ওয়াশিংটন বা তেলআভিভ থেকে সামান্যতম উসকানি এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এমন এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে পড়বে, যার অর্থনৈতিক চড়া মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকে।


তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.