× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সমাজতন্ত্র দমনের হাতিয়ার হিসেবেই জায়নবাদের উৎপত্তি: ‘মিডল ইস্ট আই’-এর বিশ্লেষণ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৯ মে ২০২৬, ২২:২৮ পিএম । আপডেটঃ ১৯ মে ২০২৬, ২৩:১৮ পিএম

প্রতীকী ছবি

বর্তমান বিশ্বে প্রগতিশীল রাজনীতি ও ফিলিস্তিনপন্থী সংহতি আন্দোলনের ওপর ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক আক্রমণ মূলত উনিশ শতকের সুদীর্ঘ ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই ধারাবাহিকতা। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, উনিশ শতকের শেষভাগ থেকেই জায়নবাদী নেতারা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কাছে নিজেদের আন্দোলনকে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী প্রাচীর হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন। পশ্চিমা শক্তিগুলোও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা রুখে দিতে জায়নবাদকে এক মোক্ষম কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে, যা আধুনিক যুগেও বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক সাম্প্রতিক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক নেতাদের ওপর ইসরাইলপন্থীদের চাপ এখন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র। যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিনের নির্বাচনি সম্ভাবনা নস্যাৎ করা এবং মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে কোণঠাসা করতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপুল অর্থায়ন ছিল মূলত এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ। বর্তমানে ফ্রান্সে ফিলিস্তিনপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলেনশঁকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ও ‘ইসলামো-বলশেভিক’ আখ্যা দিয়ে কলঙ্কিত করার চেষ্টা এবং স্পেনের পেদ্রো সানচেজের সমাজতান্ত্রিক সরকারকে দুর্বল করতে দেশটির চরম ডানপন্থী ‘ভক্স’ পার্টিকে ইসরাইলপন্থীদের সমর্থন দেওয়ার পেছনেও এই একই উদ্দেশ্য কাজ করছে।

জায়নবাদের এই সমাজতন্ত্রবিরোধী ইতিহাসের শিকড় মূলত এর প্রতিষ্ঠাতা থিওডর হার্জেলের সময়কাল থেকে শুরু হয়েছিল। ১৮৯০-এর দশকে জার্মানির কায়সারের সঙ্গে বৈঠকে হার্জেল স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, জায়নবাদ ইহুদি তরুণদের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে দূরে রাখবে। এমনকি ১৯১৭ সালে রাশিয়ার ‘অক্টোবর বিপ্লব’ সফল হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে ব্রিটেনের বিতর্কিত ‘বেলফোর ঘোষণা’ প্রকাশের সময়কালটি কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না; বরং রুশ ইহুদিরা যাতে সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই ফিলিস্তিনে ‘ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি’র এই টোপ ফেলা হয়েছিল।

তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ এবং উইনস্টন চার্চিল কমিউনিজমকে একটি ‘ইহুদি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখতেন এবং এর বিপরীতে জায়নবাদকে একটি বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদঘেঁষা সমাধান হিসেবে বিবেচনা করতেন। ১৯২২ সালে জায়নবাদী নেতা চেইম ওয়াইজম্যান ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তাদের ফিলিস্তিনে অবস্থানরত কমিউনিস্ট ইহুদিদের দমন করার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেছিলেন যে, জায়নবাদ ও বলশেভিজম একে অপরের চরম শত্রু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, "১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও তাদের এই বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্রবিরোধী আগ্রাসী নীতি অব্যাহত থাকে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে গুয়াতেমালা, চিলির পিনোচে সরকার এবং আর্জেন্টিনার ডানপন্থী সামরিক জান্তাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার কুখ্যাত বর্ণবাদী সরকারকে ইসরাইলের বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার পেছনে প্রধান নিয়ামক ছিল এই সমাজতন্ত্রবিরোধী বৈশ্বিক অক্ষ।"

বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যেসব আন্তর্জাতিক প্রগতিশীল ও বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি বিশ্বজুড়ে সোচ্চার হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেউলিয়া করতে ইসরাইল ও তার মিত্ররা এখন একযোগে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জায়নবাদের মূল ভিত্তিই দাঁড়িয়ে আছে পশ্চিমা বুর্জোয়া ও ডানপন্থী শক্তির স্বার্থরক্ষার ওপর। ফলে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলোর ওপর ইসরাইলপন্থী লবির এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক আক্রমণ আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.