× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভ্যাকসিনহীন নতুন ইবোলার প্রাদুর্ভাবে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ডব্লিউএইচও

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৯ মে ২০২৬, ১৭:৩৪ পিএম । আপডেটঃ ২০ মে ২০২৬, ০১:৫১ এএম

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার মুখে কঙ্গোর ইবোলা পরিস্থিতি।

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে অন্তত ২৪৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। মহামারিটি প্রতিবেশী উগান্ডা ও কঙ্গোর কৌশলগত শহর গোমায় ছড়িয়ে পড়ার পর এই বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করা হলো। বর্তমান প্রজাতিটির বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক বা ওষুধ না থাকায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত, ব্যাপক জনঘনত্ব ও দুর্বল স্বাস্থ্য কাঠামোর সুযোগে ইবোলা ভাইরাসটি এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভাইরাসটির সংক্রমণ ইতিমধ্যে ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া, খনি সমৃদ্ধ শহর মঙ্গওয়ালু এবং রোয়ামপারা ছাড়িয়ে দেশটির মূল রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে কারণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ এর নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর গোমাতেও ল্যাব-পরীক্ষিত একজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ভাইরাসটি উগান্ডায় প্রবেশ করেছে, যেখানে ৫৯ বছর বয়সী এক কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যুসহ দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, ডিআর কঙ্গোয় অবস্থানরত অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসন তাদের উদ্ধার করে জার্মানির একটি সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্টারস ফর ডি-জীজ্ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) আক্রান্ত অঞ্চলে অতিরিক্ত কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মার্কিন দূতাবাস নিজ নাগরিকদের ইতুরি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মুখে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা কঙ্গো সীমান্তে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক জ্যঁ কাসেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "আক্রান্ত খনি অঞ্চল ও শহরাঞ্চলগুলোর মধ্যে বিপুল মানুষের যাতায়াত থাকায় এই প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে আঞ্চলিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।"

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমানে প্রাদুর্ভাবে ঠিক কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং এটি ভৌগোলিকভাবে কতটা ছড়িয়েছে, তা নিয়ে এখনো তীব্র অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরে ঢালাওভাবে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ঠিক হবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ বৈজ্ঞানিক ভিত্তির চেয়ে ভয়ের কারণে নেওয়া হয়, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে।"

সংস্থাটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে অবিলম্বে ‘জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি নেগেটিভ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটিতে ১৭তম প্রাদুর্ভাব। তবে এবারের উদ্বেগ মূলত এর প্রজাতি নিয়ে। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসের ‘জেইর’ প্রজাতির ভ্যাকসিন থাকলেও, বর্তমান ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই।

আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা বমির মতো তরল পদার্থের সংস্পর্শে এটি ছড়ায়। এর প্রাথমিক লক্ষণ ফ্লুর মতো (জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা) হলেও, পরবর্তী ধাপে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অতীতে এই প্রজাতিটিতে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ হলেও, সামগ্রিকভাবে ইবোলার গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২০১৮-২০২০ সালে কঙ্গোতেই মারা যান ২,৩০০ জন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.