পশ্চিমবঙ্গের একটি পশুর হাটে নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে কুরবানির ঈদের আগে থমকে গেছে গবাদি পশু বিক্রি।
আসন্ন ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গবাদি পশু জবাই ও হাটের ওপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। ক্রেতার অভাবে রাজ্যের পশুর হাটগুলো কার্যত শূন্য হয়ে পড়ায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের হিন্দু গরু খামারিদের মধ্যে হাহাকার তৈরি হয়েছে, এমনকি অনেকে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন। মূলত সারা বছর ধারদেনা করে লালন-পালন করা গবাদি পশু ঈদের মৌসুমে বিক্রি করতে না পারায় এই পরিবারগুলো এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নতুন সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন ছাড়া কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। পশুর বয়স, শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষার পাশাপাশি গর্ভবতী পশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা জায়গায় পশু জবাই নিষিদ্ধ করে কেবল অনুমোদিত কসাইখানায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমান্য করলে কঠোর জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে দূর-দূরান্তের পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এবার হাটে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। মুর্শিদাবাদ, মালদহসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পশুর হাটে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
মাঠপর্যায়ে পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণের অবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নিয়ে খামারিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ প্রান্তিক খামারির কাছে পশুর বয়স প্রমাণের কোনো আনুষ্ঠানিক নথিপত্র না থাকায় তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুর্শিদাবাদের একজন প্রান্তিক হিন্দু খামারি নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সরাসরি বলেন, "সারা বছর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই চারটা গরু বড় করেছি ঈদের হাটে বিক্রি করে দেনা শোধ করব বলে। এখন আইনের ভয়ে কোনো ক্রেতা হাটের দিকে তাকাচ্ছে না; পশুগুলো বিক্রি করতে না পারলে পরিবার নিয়ে বিষ খাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই নতুন নিয়ম নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এর বড় ধাক্কা লেগেছে গ্রামীণ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর, যার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছেন অমুসলিম প্রান্তিক খামারিরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করা না গেলে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। প্রশাসন যদি বয়স নির্ধারণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের খামারিদের আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
