× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

উচ্ছেদ অভিযান ও মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৯ মে ২০২৬, ০৩:২৪ এএম । আপডেটঃ ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মুসলিম-অধ্যুষিত তপসিয়া-তিলজলা এলাকায় বুলডোজার দিয়ে সম্প্রতি কথিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার মুসলিম-অধ্যুষিত তপসিয়া ও তিলজলা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর কোনো নোটিশ ছাড়াই ‘বুলডোজার’ চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান, যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে রাজ্যজুড়ে গবাদিপশু জবাই ও মাংস বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এবং বিজেপি বিধায়কদের তরফ থেকে গরুর ‘জন্মসনদ’ চাওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। দক্ষিণ কলকাতার তপসিয়া এলাকার একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পর, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ওই অঞ্চলের মুসলিমপ্রধান বস্তি ও স্থাপনাগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়া জমি ও বাড়ির সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট এই উচ্ছেদ অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিলেও পুনর্বাসনের কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিপিআইএম এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) মতো রাজনৈতিক দলগুলো উচ্ছেদস্থলে গিয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে।

একই কায়দায় হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল জংশন এবং উত্তর কলকাতার নিউমার্কেট ও পার্ক সার্কাস এলাকায় ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই দোকানপাট ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে গত রবিবার পার্ক সার্কাস এলাকায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে, যা একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বহু আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকারের এই কড়া অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, "সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি জমি দখল বরদাশত করা হবে না।"

এদিকে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে উদযাপিত হতে যাওয়া ঈদুল আজহার ঠিক আগে রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের একটি পুরোনো আইনের সূত্র ধরে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না এবং জবাইয়ের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আগাম লিখিত অনুমতি লাগবে। এই নির্দেশনার পর কলকাতার রেস্তোরাঁ ও বাজারে গরুর মাংস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, বরং চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন হিন্দু খামারি ও ব্যবসায়ীরা, যাঁরা বছরের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এরই মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র একটি পশুবাহী গাড়ি আটকে গরুর ‘জন্মসনদ’ বা বার্থ সার্টিফিকেট দাবি করলে বিষয়টি হাস্যরস ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। এর তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুনাল ঘোষ বলেন, “আমরা বিধায়কের কাছে অনুরোধ করব, বিজেপিশাসিত কোনো রাজ্যের অন্তত একটি গরুর জন্মসনদ আমাদের দেখান, তাহলে বিষয়টি আমাদের রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।”

কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি মুসলিমদের প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “আইনের যেসব শর্ত, তাতে ভবিষ্যতে গরু কোরবানি বা জবাই করা বেশ কষ্টকর হবে। আমি সব মুসলিমের কাছে আবেদন করব, শুধু গরু কোরবানি নয়, আপনারা গরুর মাংস খাওয়াও চিরতরে বন্ধ করে দিন।”

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি দিয়ে লিখেছেন, “মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা না ছড়ানোই কাম্য। প্রশাসন নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দিলে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারবে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আকস্মিক বিধিনিষেধ পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.