× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আমিরাতের পরমাণু কেন্দ্রে ড্রোন হামলা, হুমকিতে যুদ্ধবিরতি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৭ মে ২০২৬, ২০:৪৫ পিএম । আপডেটঃ ১৭ মে ২০২৬, ২৩:০২ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত আরব বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পারমাণবিক স্থাপনা 'বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্র'। রবিবার এই কেন্দ্রটিতে ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। ছবি: এপি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে' একটি আকস্মিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রবিবারের এই হামলায় কেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ সীমানায় থাকা একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা চলমান ইরান যুদ্ধের পর উদ্ভূত ভঙ্গুর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

আবুধাবি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত এই পরমাণু স্থাপনায় হামলার পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি এবং কেউ হতাহতও হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, ভূরাজনৈতিক সমীকরণে সন্দেহের তির সরাসরি ইরানের দিকেই নির্দেশ করছে।

সম্প্রতি ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি তৈরি 'আয়রন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই তেহরান ক্রমাগত আবুধাবিকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এমন এক সময়ে এই ড্রোন হামলাটি চালানো হলো, যখন ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী 'হরমুজ প্রণালি' সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

বর্তমানে এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার সব কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে স্থবির।

এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেকোনো মুহূর্তে এই অঞ্চলে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানি জনগণকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একের পর এক যুদ্ধংদেহী অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে খোদ উপস্থাপকদের হাতে কালাশনিকভ রাইফেল দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাত সেখানকার পৃথক একটি যুদ্ধবিরতিকেও খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় প্রায় ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২০ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। এটি সমগ্র আরব উপদ্বীপের প্রথম এবং একমাত্র বাণিজ্যিক পারমাণবিক স্থাপনা, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ (এক-কতুর্থাংশ) পূরণ করে থাকে।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘১২৩ চুক্তি’ সই করেছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী আবুধাবি নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের অধিকার ত্যাগ করে। ফলে এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

হামলার পর আমিরাতের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নিরাপত্তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি আশ্বস্ত করে লিখেছে, "সবগুলো রিয়্যাক্টর ইউনিট সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং নিরাপদভাবে চালু রয়েছে।"

তবে আমিরাতি বিবৃতিতে এই হামলার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, ভিয়েনাভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

চলমান ইরান যুদ্ধে এই প্রথম চার রিয়্যাক্টর বিশিষ্ট বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, যা সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি আবুধাবির সুদূর পশ্চিম মরুভূমিতে অবস্থিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিশানা করার এই বিপজ্জনক ও আশঙ্কাজনক প্রবণতা প্রথম দেখা যায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর। চলমান সংঘাতের সময় তেহরানও একাধিকবার দাবি করেছে যে তাদের নিজস্ব 'বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি' আক্রান্ত হয়েছে, যদিও রাশিয়ার পরিচালনায় থাকা সেই রিয়্যাক্টরের সরাসরি কোনো ক্ষতি বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর আশেপাশে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিটি ভেঙে পড়লে মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি ভয়াবহ ও উন্মুক্ত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দাকে আরও দীর্ঘায়িত ও তীব্র করবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.