ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই গাজা সিটিতে এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদকে হত্যা করেছে ইসরাইল। শুক্রবার বিকেলে চালানো এই যৌথ অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান আল-হাদাদ নিহত হন বলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ) নিশ্চিত করেছে। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ।
শনিবার (১৬ মে) উত্তর গাজার বিভিন্ন মসজিদ থেকেও লাউডস্পিকারে আল-হাদাদের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা অভিযানের সফলতা দাবি করে বলেন, "প্রাথমিক আলামত ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এই সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত অভিযানটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।"
ইসরাইলের পক্ষ থেকে আল-হাদাদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং পরবর্তীতে জিম্মিদের আটকে রাখার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা উপত্যকাকে সামরিক মুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর জন্যও তাকে দায়ী করেছে তেল আবিব।
গাজার জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয় এবং এর পরপরই কাছাকাছি একটি রাস্তায় থাকা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলাটি করা হয়। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, নিহত সাতজনের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশুর মরদেহ তারা হাসপাতালে পেয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
অত্যন্ত গোপনে চলাফেরা করার কারণে হামাসের ভেতরে ‘আল-কাসামের ভূত’ নামে পরিচিত ছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ। ইসরাইলি অভিযানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর, আল-হাদাদকেই সংগঠনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় দৃশ্যত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল নিয়মিতভাবেই গাজায় এমন হামলা চালিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য-অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৮৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর ঠিক একদিন আগেই, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিকোলে ম্লাদেনভ স্বীকার করেছিলেন যে এই যুদ্ধবিরতিটি ‘ত্রুটিমুক্ত নয়’। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার সাবেক এই বিশেষ সমন্বয়কারী বলেছেন যে, হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে, যার ওপরই মূলত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে। আল-হাদাদের এই হত্যাকাণ্ড চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
