কূটনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতার বিশ্লেষণে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান এএস দুলাত। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট বয়ান বারবার প্রচার করা সত্ত্বেও কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করার দীর্ঘদিনের ভারতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)-এর সাবেক প্রধান এএস দুলাত। একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক লবিং ও প্রক্সি চ্যানেল ব্যবহার করেও নয়াদিল্লি তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, উল্টো সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ভারত নিজেই দিন দিন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
বিগত বছরগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থবির থাকার পর, ২০২৫ সালের মে মাসে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই পরাশক্তি ৮৭ ঘণ্টার একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘাত চলাকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের চারটি ফরাসি রাফাল, একটি সুখোই-৩০, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান এবং একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল মাল্টি-রোল চালকবিহীন ড্রোন পদ্ধতিসহ মোট আটটি আকাশযান ভূপাতিত করে। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটে।
সাক্ষাৎকারে এএস দুলাত বলেন, "ভারতের একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে পাকিস্তান এক সময় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। তবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই দেশটি কখনোই ভেঙে যাবে না।"
গত বছরের সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তান কেবল নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করেনি, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে দেশটি প্রথমে একটি ১৪ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে তার মেয়াদ বাড়াতে সক্ষম হয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই ভারসাম্যপূর্ণ, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই গোয়েন্দা প্রধান জানান, দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি ও মনোযোগ পাচ্ছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কাশ্মীর সংকট নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ‘র’-এর এই সাবেক নীতি-নির্ধারক। ভারতের বেআইনিভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (আইআইওজেক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংকটের আড়ালের আসল সত্যটি হলো—সেখানকার স্থানীয় জনগণের মধ্যে চলমান তীব্র অশান্তি, গভীর অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় বঞ্চনাবোধ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানের এই অকপট স্বীকারোক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যের এক নতুন চিত্র তুলে ধরে। বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের বর্তমান গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে যে, কেবল বয়ান তৈরি করে পারমাণবিক শক্তিধর কোনো প্রতিবেশীকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা অসম্ভব।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
