মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি: ফাইল/এএনআই
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত চতুর্দশ শতকের ঐতিহাসিক ভোজশালা–কামাল মাওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ‘সরস্বতী মন্দির’ হিসেবে রায় দিয়েছেন রাজ্যটির হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগের (এএসআই) বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও ঐতিহাসিক নথির ওপর ভিত্তি করে আদালত জানান, বিতর্কিত ওই স্থানে এখন থেকে কেবল হিন্দুরাই পূজার্চনার অধিকার পাবেন, যার ফলে সেখানে মুসলিমদের নামাজ পড়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকারের অবসান ঘটল।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী ভোজশালার সংরক্ষিত চরিত্রটি বজায় থাকবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব এএসআইয়ের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। তবে উপাসনার অধিকার এককভাবে হিন্দুদের দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, “বিতর্কিত ওই স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে হিন্দুরা উপাসনা করে আসছে এবং ঐতিহাসিক সাহিত্য প্রমাণ করে যে স্থানটি আদতে সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ও নিশ্চিতভাবেই সরস্বতীর মন্দির ছিল।” একই সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়কে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমির ব্যবস্থা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মতো ভোজশালার এই স্থাপত্যটি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চলে আসছিল। হিন্দুদের দাবি, একাদশ শতকে পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের আমলে এখানে জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষালয় স্থাপিত হয়েছিল। অন্যদিকে, মুসলিমদের দাবি অনুযায়ী, এটি সুফি সাধক কামালউদ্দিনের স্মৃতিবিজড়িত ‘কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদ’, যা চতুর্দশ শতকে খিলজি ও ঘোরি রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।
বাবরি মসজিদ আন্দোলনের সময় থেকেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো কাশী ও মথুরার পাশাপাশি ভোজশালার চরিত্র নির্ধারণের দাবি তুলেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০০৩ সালে প্রশাসন এক বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে, যার অধীনে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা সেখানে পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়ে আসছিলেন। হাইকোর্টের এই নতুন রায়ের ফলে ২০০৩ সালের সেই প্রশাসনিক আদেশ এবং মুসলিমদের নামাজের অধিকার বাতিল হয়ে গেল।
রায়ে সুদূরপ্রসারী নির্দেশনায় আদালত রাজ্য সরকারকে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া, মামলাকারীদের দাবি অনুযায়ী ভোজশালার দেবী সরস্বতীর যে আদি মূর্তিটি বর্তমানে লন্ডনের জাদুঘরে রয়েছে, তা ফিরিয়ে এনে পুনরায় স্থাপনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অযোধ্যার পর ভোজশালার এই রায় ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় মুসলিম নেতারা এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
