× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পশ্চিমবঙ্গে গবাদি পশু জবাই ও মাংস বিক্রিতে কঠোর বিধিনিষেধ: শুভেন্দু সরকারের নতুন নির্দেশনা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৫ মে ২০২৬, ০৩:১৫ এএম । আপডেটঃ ১৫ মে ২০২৬, ০৩:২০ এএম

ভবানীপুরে শোভাযাত্রায় শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গে গবাদি পশু জবাই ও মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের পুরনো আইন নতুন করে বলবৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি ও নির্দিষ্ট বয়সের প্রমাণ ছাড়া কোনো গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে জনস্বাস্থ্য ও পশুসম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে জারি করা এই কঠোর নিয়ম রাজ্যে মাংসের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গরু, বাছুর বা মহিষ জবাই করা আইনত দণ্ডনীয়। পশু জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছ থেকে পশুটির বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা সংক্রান্ত ‘ফিট-ফর-স্লটার’ সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাংস প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পর্দার আড়ালে ঢেকে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি নেতা আলিউল পেয়দা বলেন, “গোমাংস বিক্রিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সরকার কেবল হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে এবং পর্দার আড়ালে ঢেকে বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছে।” তবে এই নিয়মের প্রভাবে ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁওয়ে একটি মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কলকাতার মিট মার্কেটগুলোতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও শহরতলির ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

খাদ্য গবেষক ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাস্তার ওপর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে সরকার যেন নিরপেক্ষভাবে এই আইন কার্যকর করে।”

মাংস বিক্রির পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে গেছে বর্তমান সরকার। তিলজলায় একটি অবৈধ চামড়া কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর ১৩ মে সেখানে বুলডোজার চালিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। তবে এই ‘বুলডোজার জাস্টিস’-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি একে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এমনকি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আদালতে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছেন, “বাংলা বুলডোজার চালানোর রাজ্য নয়।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘আসাম মডেল’ অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিএসএফ-এর কাছে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ বা সরকার কাঁটাতার ভয় পায় না।” এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ টোল বা ‘তোলাবাজি’ বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন প্রশাসনিক ও আইনি কড়াকড়ি পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মাংস বিক্রির নিয়মাবলি আসন্ন ধর্মীয় উৎসবের কেনাকাটায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

কলকাতায় একটি গরুর হাট। ফাইল ছবি



তথ্যসূত্র: বিবিসি 



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.