ভারতের উত্তর প্রদেশে গত ৩৬ ঘণ্টায় প্রবল শিলাবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বজ্রপাতে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের ২৫টি জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ৭২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তীব্র ঝড়ে বিপুল জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি লখনউসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার ঋষিকেশ ভাস্কর যশোদের কার্যালয় জানিয়েছে, এবারের দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে প্রয়াগরাজে, সেখানে ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, সন্ত রবিদাসনগরে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগের কবলে পড়ে রাজ্যে ১৭০টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২২৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ কমিশনার এক বিবৃতিতে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টার’-এর মাধ্যমে দুর্গত জেলাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
দুর্যোগের মধ্যে বেরেলি জেলার ভামোরা এলাকায় এক অলৌকিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাবিয়ানা গ্রামের নানহে আনসারি নামের এক ব্যক্তি ঝোড়ো বাতাসের তোড়ে একটি টিনের চালের সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠে যান। পরে তিনি একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। শূন্যে উড়ে যাওয়ার সেই নাটকীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ত্রাণতৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিএম) উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে এবং হতাহতদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র জানান, কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস